নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় চণ্ডিগড় গ্রামে দীর্ঘ এক যুগ ধরে মানবেতর জীবনযাপন করা স্বামীহারা ও হতদরিদ্র জরিনা খাতুনকে নতুন ঘর উপহার দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল ৪টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিনার কাছে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।
জানা যায়, চণ্ডিগড় ইউনিয়নের চণ্ডিগড় গ্রামের বাসিন্দা জরিনা খাতুনের স্বামী ১০-১২ বছর আগে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তিন সন্তানকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছিল তার। জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন তিনি। তার এক সন্তান শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায়, কাজের সময় নিরুপায় হয়ে তাকে বেঁধে রাখতে হতো। নিজস্ব কোনো শক্ত আশ্রয় না থাকায় ভাঙাচোরা ঘরে ত্রিপল ও পলিথিন টানিয়ে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বসবাস করছিলেন এই নারী।
জরিনা খাতুনের করুণ জীবনসংগ্রামের ভিডিও ধারণ করেন স্থানীয় যুবক শাহিন মিয়া। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে আনেন। বিষয়টি জানার পর ‘আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী’- সংসদ সদস্যের এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিয়ে ব্যক্তিগত অর্থায়নে জরিনাকে রঙিন টিনের পাকা ঘর নির্মাণ করে দেন তিনি।
দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আবেগাপ্লুত জরিনা খাতুন বলেন, ‘আমার কোনো ঘর ছিল না। প্রতিবন্ধী মেয়েকে বেঁধে রেখে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। ভাঙা ঘরে ত্রিপলের বেড়া দিয়ে থাকতাম। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি আমার এমন একটা সুন্দর ঘর হবে। ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। কায়সার কামাল ও শাহিন ভাইয়ের জন্য আমি মন থেকে দোয়া করি।’
অসহায় জরিনা খাতুনের মাথা গোঁজার ঠাঁই হওয়ায় আনন্দিত পুরো গ্রামবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা কাজল মিয়া বলেন, ‘জরিনা দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে অনেক কষ্টে ছিল। তার এক সন্তান প্রতিবন্ধী, আরেকজন দাখিল পাস করলেও অভাবের কারণে কিছু করতে পারছে না। আজ সে ঘর পেয়েছে, এতে আমরা প্রতিবেশীরা অনেক আনন্দিত। ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে আমরা ধন্যবাদ জানাই, তিনি যেন এমন ভালো কাজ আগামীতেও চালিয়ে যেতে পারেন।’
গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মাওলানা বুরহান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের স্পিকার কায়সার কামাল সাহেব এই হতদরিদ্র নারীকে ঘর দিয়েছেন। এতে আমাদের মহল্লা ও গ্রামবাসী সকলেই অত্যন্ত খুশি।’
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের কল্যাণে জনপ্রতিনিধিদের এমন ব্যক্তিগত ও মানবিক উদ্যোগ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।



