শনিবার, অক্টোবর ১০

কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ৯ নম্বর নওপাড়া ইউনিয়নে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গৃহীত ‘বাহারাইল বিল সাব-প্রজেক্ট’ এর কাজে চরম ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি। অথচ দৃশ্যমান কোনো কাজ না হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এলাকার এত বড় একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ইউপি চেয়ারম্যান কিছুই জানেন না।

জানা গেছে, এলজিইডির ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন স্কিমটির মূল উদ্দেশ্য হলো বিলে পানি সংরক্ষণ, শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন। চুক্তিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ঠিকাদার মো. মাহিবুল হকের সঙ্গে কাজটির চুক্তি হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্পের আওতায় বক্স কালভার্ট নির্মাণ, রেগুলেটর (সুইস) গেট পরিবর্তন, ডব্লিউএমসিএ (WMCA) অফিস মেরামত, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কথা রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত সময় শেষ হতে মাত্র তিন মাস বাকি থাকলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। এখন পর্যন্ত কেবল সুইস গেটে রং করা এবং সামান্য মাটি কাটার কাজ ছাড়া মূল কাঠামোগত কোনো কাজই শুরু হয়নি।

কাজের বেহাল দশায় এলাকার কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। বাহারাইল বিল সমবায় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘৩৭ লাখ টাকার প্রকল্পের কথা শুনে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কাজের বর্তমান অবস্থা দেখে নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হওয়া নিয়ে আমরা চিন্তিত। ঠিকাদারের সঙ্গেও কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।’

এদিকে, প্রকল্পটির বিষয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অজ্ঞতা স্থানীয়দের হতাশ করেছে। নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান কাউসার বলেন, ‘প্রকল্পটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। এলাকার কৃষকদের জন্য এ ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম জানান, বাহারাইল বিল নামে কোনো বিল বা সেখানে চলমান এ ধরনের কোনো প্রকল্প সম্পর্কে তার জানা নেই।

তবে ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন কেন্দুয়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আল আমিন সরকার। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হবে। কাজে কেন ধীরগতি, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসন কৃষকদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই স্থানীয় কৃষকরা অবিলম্বে ঠিকাদারকে কাজে ফিরিয়ে সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version