নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ভারী বর্ষণে যখন চারপাশ থৈ থৈ, মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না, ঠিক তখনই মানবিকতার এক অনন্য ও বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বৃষ্টিতে ভেজা এক অসহায় ও ক্ষুধার্ত বৃদ্ধের মাথার ওপর নিজের ছাতা ধরে এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছেন।
জানা যায়, রবিবার (২১ জুন) সকাল থেকেই কলমাকান্দার আকাশ ছিল ঘন কালো মেঘে ঢাকা। দুপুরের পর থেকে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। প্রবল বর্ষণে লেংগুড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ কাঁচা রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। দৈনন্দিন কাজে স্থবিরতা নেমে আসায় হাট-বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে পড়ে প্রায় জনশূন্য। দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন ঘরে বসে থাকতে পারেননি লেংগুড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই নিজ এলাকার মানুষের খোঁজখবর নিতে বেরিয়ে পড়েন তিনি। এসময় তার নিরাপত্তায় ও সহযোগিতায় সঙ্গে ছিলেন দুইজন গ্রাম পুলিশ।
এলাকা পরিদর্শনের একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গীরা লেংগুড়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের বাজারের কাছে পৌঁছান। সেখানে একটি বন্ধ দোকানের বারান্দায় বৃষ্টিতে জবুথবু হয়ে বসে থাকতে দেখেন সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধকে। জানা যায়, ওই বৃদ্ধের নাম মুক্তার আলী। তিনি পেশায় একজন ভিক্ষুক। টানা বৃষ্টির কারণে সেদিন তার কোনো উপার্জন হয়নি। দীর্ঘক্ষণ পেটে কোনো খাবার পড়েনি। শীতে ও বৃষ্টিতে ভিজে তিনি অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় ওই বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
অসহায় বৃদ্ধকে দেখে স্থির থাকতে পারেননি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি দ্রুত তার কাছে এগিয়ে যান এবং নিজের ব্যবহৃত ছাতাটি বৃদ্ধের মাথার ওপর তুলে ধরেন। পরম মমতায় তার খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা দেন। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে বৃষ্টি থেকে রক্ষার্থে ওই বৃদ্ধের হাতে একটি নতুন ছাতা এবং খাবার কেনার জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ পাঁচমো টাকা অর্থ সহায়তা তুলে দেন তিনি।
অপ্রত্যাশিত এই ভালোবাসা ও সহায়তা পেয়ে আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সত্তরোর্ধ্ব মুক্তার আলী। কৃতজ্ঞতায় তার চোখ ভিজে ওঠে। কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই বয়সে জীবনে এমন সহানুভূতি আমি আগে কখনো পাইনি। বিপদের সময় উনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আল্লাহ ওনাকে ভালো রাখুক।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ সমাজে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি শুধু ছাতাই দেননি, বরং সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য ভরসার বিশাল হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। দুর্যোগের দিনে তার এ উদ্যোগ সমাজের বিত্তবানদের জন্যও একটি বড় শিক্ষণীয় বার্তা।



