নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় চিত্রং বিলের মুখে অবস্থিত অকেজো স্লুইস গেট দ্রুত সংস্কার, বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রিতে প্রচলিত অবৈধ ‘ঢলক’ (ধলতা) প্রথা বন্ধ এবং প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে কৃষি প্রণোদনা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে সংগঠনের নেতা-কর্মী, ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের পূর্বধলা উপজেলা সংগঠক সায়েদুর রহমান খান পাঠান (লিংকন), ময়মনসিংহ জেলা সংগঠক আরিফুল হাসান, স্থানীয় সংগঠক রোস্তম আলী, রুবেল মিয়া, সিরাজুল ইসলাম ও নিলয় তালুকদার।
মানববন্ধনে বক্তারা চিত্রং বিল সংলগ্ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, বড়রিয়া ও আলমপুর গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে নির্মিত স্লুইস গেটটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে শুকনো মৌসুমে পানি সংরক্ষণ যেমন সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্ষাকালে বিলের পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত করে। এর ফলে মারাত্মকভাবে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে এবং গবাদিপশুর খাদ্যসংকট দেখা দিচ্ছে। এছাড়া বাড়িঘর, সড়ক ও জনপদ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। পানি নামানোর জন্য অনেক সময় স্থানীয় লোকজন বাধ্য হয়ে রাস্তা কেটে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, যা পরবর্তীতে নতুন করে জনদুর্ভোগ ও সামাজিক বিরোধের সৃষ্টি করে।
কৃষকদের শোষণের আরেকটি চিত্র তুলে ধরে বক্তারা বলেন, পূর্বধলা, শ্যামগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে কৃষকরা ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বিক্রি করতে গেলে ব্যবসায়ীরা প্রতি মণে দুই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ফসল ‘ঢলক’ বা ধলতা হিসেবে কেটে রাখেন। এ ধরনের শোষকমূলক প্রথা বন্ধে আইন থাকলেও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে তার কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই। এর ফলে কৃষকরা তাদের ন্যায্যমূল্য ও প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানববন্ধন শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। তা হলো- চিত্রং বিলের মুখে অবস্থিত স্লুইস গেটটি দ্রুত সংস্কার করে পানি নিষ্কাশন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা। উপজেলার সব বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অবৈধ ‘ধলতা’ বা ঢলক প্রথা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং প্রকৃত কৃষকদের তালিকা যাচাই করে তাদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে আমন মৌসুমের বীজ বিতরণ নিশ্চিত করা।
কর্মসূচি শেষে সংগঠনের নেতারা ইউএনও কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে যান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দপ্তরে উপস্থিত না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করা হয়।



