গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সেবার (প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ও বয়স্ক ভাতা) কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বড়দহ সেতুর ওপর থেকে প্রতারণা মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই শিবলী কায়েছ মীর জানিয়েছেন, গত বছরের ১৭ মে থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, আসামিরা এর আগে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় পালিয়ে যান। তখন থেকেই তাদেরকে খুঁজছিল পুলিশ।
ওই সময় স্থানীয় আশরাফুলের শয়ন কক্ষ থেকে এজাহারনামীয় পলাতক আসামি হাদিসুর রহমান রনির ব্যক্তিগত ডায়েরি, সেনাবাহিনীর মেজর পদবির পোশাক পরিহিত অবস্থায় একটি থ্রি আর সাইজের ছবি; রবি কোম্পানির ৪০টি, গ্রামীণ ফোনের ৫টি ও এয়ারটেলের ৫টি সিম কার্ড, একটি প্রিন্টার, একটি কম্পিউটার, বিভিন্ন কোম্পানির চারটি মনিটর, একটি কালো রংয়ের আইফোন, একটি ল্যাপটপ, দুটি সিসি ক্যামেরা, একটি তোশিবা ব্যান্ডের হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়।
শিবলী কায়েছ মীর আরো জানান, এর পর আশরাফুলের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী উপজেলার উত্তর সিঙ্গা গ্রামের জুয়েল মিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় ওয়ানপ্লাসসহ কয়েকটি নামি কোম্পানির অ্যান্ড্রয়েড ও বাটন মোবাইল ফোন ১০টি, গ্রামীণ, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেলসহ বিভিন্ন অপারেটরের ২ হাজার ৩৮০টি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ ও ২৪ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।
পরে আশরাফুল, হাদিসুর রহমান রনিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৭ মে থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা হয়।সেই মামলায় শুক্রবার গাইবান্ধা সদর উপজেলার শিবপুর এলাকার মৃত কল্লোল সরকারের ছেলে দাইয়ান শহীদ দীপ সরকার (২৫) এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাওভাঙ্গা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে সোহানুর রহমান শান্তকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হক আরও জানান, “দীর্ঘদিন ধরে তারা সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে গ্রামের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষদের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে



