নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) অত্যন্ত কঠোর ও পেশাদারিত্বের সাথে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়কে অভিনব এক মাদক চালানের সন্ধান পেয়েছে র্যাব-১৪। চিপসের প্যাকেটের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৬০৭ বোতল বিদেশী মদসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো- গাজীপুর জেলার মো. রাসেল মিয়া (২৮) ও মো. খালিদ মাহমুদ শোয়েব (২৮) এবং বগুড়ার মো. বাবুল মিয়া (২৮)।
রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ (রবিবার) সকাল আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে সিপিএসসি, র্যাব-১৪, ময়মনসিংহের একটি আভিযানিক দল ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়কে রশিদপুর এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে।
চেকপোস্ট চলাকালীন একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেল র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আভিযানিক দলটি ধাওয়া করে যানবাহন দুটিকে আটকে দেয় এবং তিনজনকে আটক করে।
আটকের পর উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা পিকআপ ভ্যানে অবৈধ মাদকদ্রব্য থাকার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে আটককৃতদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে, পিকআপের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে চিপসের প্যাকেটের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৬০৭ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়।
মদ উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান, একটি মোটরসাইকেল, নগদ সাত হাজার ৩৩০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করে র্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব-১৪ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা পেশাদার মাদক কারবারি। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে বিদেশী মদ সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ ও এর আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই তারা চিপসের প্যাকেটের নিচে অভিনব কায়দায় মদের এই চালানটি নিয়ে যাচ্ছিল।
উদ্ধারকৃত বিদেশী মদ ও অন্যান্য আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের এমন কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।



