নিজস্ব প্রতিবেদক: জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই কৃষি চর্চা ও পারিবারিক খাদ্য সার্বভৌমত্ব অর্জনে অনন্য ভূমিকা রাখছেন নেত্রকোনার শতবাড়ী মডেলের নারীরা। সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে সারাবছর নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, লোকায়ত জ্ঞানের ব্যবহার এবং স্থানীয় বীজ সংরক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি ও পুষ্টির জোগানে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ১১টায় দিনব্যাপী নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের মৌজেবালি গ্রামে কৃষক আবুল কালামের বাড়িতে সফলতার চিত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘মৌজেবালি এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার’ আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় কাইলাটি ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের ১৬ জন উদ্যমী শতবাড়ী নারী প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সভায় নারীরা তাদের নিজ নিজ বসতবাড়িতে উৎপাদিত বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি নিয়ে হাজির হন এবং নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও ফসলের পারস্পরিক বিনিময় করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রশিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন কৃষক ও গবেষক গোলাম মোস্তফা। তিনি জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নারীদের অগ্রযাত্রাকে সাধুবাদ জানান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৌজেবালি এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক কর্মকর্তা রোখসানা রুমি।
সভায় দিনব্যাপী কৃষির নানাবিধ পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো- ঋতুভিত্তিক ও বারোমাসি সবজি চাষের মাধ্যমে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করা, অনাবাদী বা পতিত জমিতে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষের সহজ কৌশল, বড় গাছের ছায়ায় চাষযোগ্য ফসল এবং সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত ঘরোয়া জৈব সার বা কম্পোস্ট তৈরি এবং বাজার নির্ভরতা কমিয়ে পূর্বপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত লোকায়ত পদ্ধতিতে বীজ সংরক্ষণ ও তার গুণগত মান বজায় রাখা।
শতবাড়ির প্রতিনিধি নারীরা জানান, তারা সম্পূর্ণ জৈব ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে সারাবছর নিজেদের আঙিনায় সবজি ও ফসল ফলান। এতে একদিকে যেমন পরিবারের নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে উদ্বৃত্ত অংশ প্রতিবেশী ও অন্যদের দিয়ে তারা সহায়তা করছেন। তারা নিজেরা নিজেদের ফসলের বীজ সংরক্ষণ করেন এবং স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তা ছড়িয়ে দেন, যা প্রকৃত খাদ্য সার্বভৌমত্ব অর্জনে ভূমিকা রাখছে।
আলোচনা পর্ব শেষে নারীরা তাদের বাড়ি থেকে আনা বৈচিত্র্যময় স্থানীয় বীজ এবং শতবাড়িতে উৎপাদিত টাটকা সবজি পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ‘শতবাড়ী মডেল’ দ্রুতই পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়বে এবং নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনে নারীরাই নেতৃত্ব দেবেন।



