বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও ব্রাজিল। গ্লোবাল সাউথের উদীয়মান এই দুই দেশ তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও উচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে চায়।
আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির শুক্রবার ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অবস্থিত প্যালাসিও দো প্লানাল্টো-তে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা’র পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিমের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, গ্লোবাল সাউথের উদীয়মান শক্তি হিসেবে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।
আলোচনায় উঠে আসে, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে দুই দেশের অর্থনীতির প্রকৃত সম্ভাবনার তুলনায় এ পরিমাণ এখনও অনেক কম বলে মত দেন তারা।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। সরাসরি জাহাজ চলাচল, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক পর্যায়ে যোগাযোগ জোরালো করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশ আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে তুলা, সয়াবিন, চিনি, কৃষিপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও সিরামিক রপ্তানিরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান আমোরিম। তিনি বাংলাদেশকে গ্লোবাল সাউথের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান কণ্ঠস্বর হিসেবে অভিহিত করেন।
উভয় পক্ষ চলতি বছরের শেষ দিকে ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠেয় ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ (এফওসি) নিয়ে আলোচনা করেন। এই আলোচনার মাধ্যমে কৃষি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উদ্ভাবন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি চুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে বলে আশা করেন তারা।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সমতা, মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও যৌথ সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে অঙ্গিকারবদ্ধ।
আমোরিম বলেন, গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে বাংলাদেশ ও ব্রাজিল একটি ন্যায্য, বহুমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় তিনি কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল রূপান্তর, জনস্বাস্থ্য, শিল্প উদ্ভাবন এবং প্রতিরক্ষা গবেষণায় দুই দেশের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।



