শেখ শামীম: জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, “বিগত ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালের নির্বাচনগুলো কোনো নির্বাচন ছিল না, সেগুলো ছিল ক্ষমতা নবায়নের প্রক্রিয়া। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার হারানো গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে। এখন সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
এদিন আমতলা ইউনিয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ডেপুটি স্পিকার। উদ্বোধন শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজেই উৎসবমুখর পরিবেশে কোদাল হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের তথ্যমতে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অধিদপ্তরের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় এ খালটি পুনঃখনন করা হচ্ছে। এটি আমতলা ইউনিয়নের ভর বিল হতে শুরু হয়ে কাটাখালী বাজার, শিবনগর, বুরিঝুড়ি ও আতকাপাড়া হয়ে আনছা বিল পর্যন্ত সাত হাজার মিটার বিস্তৃত। এই খাল খননের ফলে এলাকার কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধন পরবর্তী বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রের চর্চা নিয়ে কথা বলেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, “হারানো গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে হলে গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মাঝে সমন্বয় এবং ভ্রাতৃত্ববোধ থাকতে হবে।”
জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক চর্চার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে দেশের জ্বালানি খাত নিয়ে কথা ওঠে। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবনায় সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। এটিই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা ঠিক এভাবেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই, যেখানে সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।”
নেত্রকোনার রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি নেত্রকোনাতেও আশা করব, আপনারা রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রেখে যার যার রাজনীতি করবেন।”
সম্প্রতি জেলার পূর্বধলায় ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, “যথাযথ আইন প্রয়োগ করে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির বিধান করতে হবে।”
সবশেষে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর আমরা সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি। তবে ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন করে যে সুযোগ পেয়েছে, তাকে কাজে লাগাতে হবে। এর মাধ্যমে আমরা এমন একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি শ্রেণী-পেশার মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।”
এ অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

