নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে এক গার্মেন্টস শ্রমিককে (৩৭) দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও চুরির ঘটনার মামলার অন্যতম আসামি মো. জুয়েল মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানাধীন ডৌহাতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪ এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশাল কোম্পানি (সিপিসি)।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী প্রায় এক বছর আগে মারা যান। ১০ বছরের এক ছেলে সন্তান নিয়ে গাজীপুর এলাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। পরিচয়ের সূত্র ধরে ময়মনসিংহের মো. এনামুল সরদার (৪০) নামের ব্যক্তি ওই নারীর কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা ধার নেন। গত বছরের ২৫ নভেম্বর ধার নেওয়া সেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীকে নিজ এলাকায় ডেকে পাঠান এনামুল।
ওইদিন রাত আনুমানিক ১০টা ৫ মিনিটে ওই নারী আসামির বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে এনামুল অটোরিকশাসহ আসামি মো. জুয়েল মিয়াকে তাকে নিয়ে আসার জন্য পাঠান।
অটোরিকশায় যাওয়ার পথে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা কৌশলে ভুক্তভোগীকে কলাবাগানে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে ধর্ষকরা তার কাছে থাকা নগদ ৩ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে বছরের ২৬ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ এর সিপিএসসি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে তারাকান্দায় অভিযান চালিয়ে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৪ জানিয়েছে, দলবদ্ধ এই ধর্ষণ ও চুরি মামলার এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামি মো. এনামুল সরদার এবং দুই নম্বর আসামি শামীম রায়হানকে (২৮) র্যাব আগেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে নান্দাইল মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

