শেখ শামীম: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি’র সঙ্গে তাঁর নিজ নির্বাচনি এলাকা নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার হাজং সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনস্থ ডেপুটি স্পীকারের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ১২ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলে কলমাকান্দা উপজেলার হাজং উপজাতি সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে আন্তরিক কুশল বিনিময় করেন। নিজ নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা অর্জন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সবাইকে সংসদ ভবন পরিদর্শন এবং সংসদ অধিবেশন অবলোকনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ হাজং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এসেছেন। এরআগে খ্রিষ্টান ও ইমাম প্রতিনিধিদল এসেছিলেন। আমার এলাকার সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেন সংসদ সম্পর্কে জানতে পারে, সেটিই আমার মূল লক্ষ্য।”
এ সময় হাজং উপজাতি সমিতির নেতৃবৃন্দ সংসদ ভবনে আসার বিশেষ সুযোগ করে দেওয়ায় ডেপুটি স্পীকারের প্রতি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মতবিনিময়কালে তারা এলাকার পূজামণ্ডপ সংস্কার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, হাজং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান, মাতৃভাষা হাজং চর্চার সুযোগ এবং এলাকার ব্রিজ-কালভার্ট ও সড়ক সংস্কারের দাবিগুলো তুলে ধরে ডেপুটি স্পীকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রতিনিধিদলের দাবির প্রেক্ষিতে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি হাজং সম্প্রদায়কে দেখে আসছি। আপনাদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয় ও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। হাজং সম্প্রদায়ের কল্যাণে যা কিছু প্রয়োজন, তা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা আমি করবো। আপনাদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং আমি এটিকে আমার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি।”
অসাম্প্রদায়িক চেতনার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষের জন্যই সংসদ। কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিস্টান বা কে বৌদ্ধ- তার ঊর্ধ্বে উঠে আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমি জানি, হাজং সম্প্রদায় এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। তাই আপনাদের সন্তানদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা, পাহাড়ি এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানির সমস্যা সমাধান, মাতৃভাষা শিক্ষার সুযোগ এবং মন্দিরভিত্তিক শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে এসব ক্ষেত্রে আমি আমার নিজস্ব তহবিল থেকেও সম্মানী প্রদানের ব্যবস্থা করবো।”
এছাড়া তিনি এলাকার ছোট ছোট ব্রিজ, কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণ এবং মেরামতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন।
এদিকে, পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানি ও সেচের সমস্যা সমাধানে গভীর নলকূপ স্থাপনের যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা এরই মধ্যে যথাযথ তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি তাদের দীর্ঘদিনের পানির সংকট দূর করতে এবং জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

