শেখ শামীম: বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (এমপি) মহোদয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (Yao Wen)।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে আরও কীভাবে অর্থবহ ও গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের অংশীদারিত্ব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক উঠে আসে তাদের কথোপকথনে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল- দেশের মেগা প্রকল্প ও যোগাযোগ খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তার ধারাবাহিকতা রক্ষা। দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য রক্ষা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার উপায়। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং নতুন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে চীনের অব্যাহত এবং অকৃত্রিম সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। ভবিষ্যতেও দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উভয় দেশ একে অপরের পাশে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যেতে যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনের সরকার বাংলাদেশের সাথে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে এবং আগামী দিনেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি বিনিময়ে তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল প্রথাগত সাক্ষাৎ নয়, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল এবং শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আগামী দিনে দুই দেশের যৌথ প্রকল্প ও বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর বাস্তবায়নে এই বৈঠক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

