নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অটো ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক আলকাজ মিয়াকে মাত্রাতিরিক্ত চেতনানাশক খাইয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি মো. সাগর মিয়াকে (২৬) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেফতারকৃত সাগর মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টার দিকে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, এদিন ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার রুজুকৃত হত্যা মামলার ছায়াতদন্ত করছিল সিপিসি-৩, র্যাব-১৪, টাঙ্গাইল ক্যাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোর আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে সিপিসি-৩, র্যাব-১৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের সহায়তায় যৌথ আভিযানিক দল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার নাকাইহাট ইউনিয়নের পশ্চিম পোগইল মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত অন্যতম আসামি সাগর মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
এরআগে, একই মামলার আরেক আসামি মো. মজিদুল ইসলাম ওরফে বিক্কুকে (৩৪) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার পীরপল বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছিল র্যাবের এই আভিযানিক দল।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রতিদিনের মতো নিজের অটো নিয়ে বের হন চালক আলকাজ মিয়া। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারীরা তাকে মাত্রাতিরিক্ত চেতনানাশক দ্রব্য সেবন করায়। এরপর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর থানাধীন জুই-যুথী সিএনজি পাম্পের পূর্ব পাশে রাস্তায় তাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে অটোটি চুরি করে পালিয়ে যায় তারা।
পরবর্তীতে হাইওয়ে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় আলকাজকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহত আলকাজের স্ত্রী বাদী হয়ে গত ২ মার্চ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর থেকেই র্যাব আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
র্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামি সাগর মিয়ার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানা পুুলিশের হস্তান্তর করা হয়েছে।

