নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় অভিযান চালিয়ে অভিনব কায়দায় সিএনজি চালিত অটোরিকশায় পাচারকালে ২৮ কেজি গাঁজাসহ মো. জিল্লুর রহমান (৪৪) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। জব্দকৃত গাঁজা, ব্যবহৃত অটোরিকশা ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ লক্ষাধিক টাকা।
গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি মো. জিল্লুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর থানাধীন দক্ষিণ নন্দরামপুর গ্রামের মৃত মো. একদিল মিয়ার ছেলে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেন্দুয়া থানাধীন গড়াডোবা ইউনিয়নের রেন্ট্রিতলা-সান্দিকোনাগামী রোডের দামিনা মোড় এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নেত্রকোনা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৮টা ২০ মিনিট থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ডিএনসির সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি রেডিং টিম অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশির একপর্যায়ে দামিনা মোড়স্থ জাকির হোসেনের মুদির দোকানের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর সন্দেহভাজন নম্বরবিহীন একটি সবুজ রঙের সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামানো হয়। পরবর্তীতে অটোরিকশাটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, ডিএনসি কর্মকর্তারা সিএনজি অটোরিকশাটির পেছনের অংশে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা নীল পলিথিন ও খাকি রঙের স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো বড় বড় গাঁজার পোটলাগুলো একে একে বের করে আনছেন। এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তি স্বীকার করেন, এরআগেও তিনি এভাবে মাদকের চালান বহন করেছেন।
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, সিএনজি থেকে উদ্ধারকৃত ১৪টি পোটলায় ২৮ কেজি গাঁজা পাওয়া যায় (১৩টি পোটলায় ২৭ কেজি এবং অপর একটিতে ১ কেজি)। উদ্ধারকৃত এসব মাদক গাঁজার অবৈধ বাজার মূল্য আনুমানিক আট লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশাটি এবং আসামির ব্যবহৃত ২৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন (সিমসহ) জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দকৃত আলামতের সর্বমোট বাজার মূল্য ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কেন্দুয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ডিএনসি নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক বাদী হিসেবে থাকছেন বলে জানা গেছে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন জিরো টলারেন্স অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

