নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার রাজুর বাজার এলাকার গজিনপুরে অবস্থিত মেসার্স কৃষ্ণদাস ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সাথে কেরোসিন মেশানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ভেজাল তেল কিনে মোটরসাইকেল বিকল হয়ে যাওয়ায় শত শত বাইকার চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পাম্পটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে তেল নিতে আসা এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি মোটরসাইকেলের ট্যাংক ফুল করার পর তেলের মান নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। পাম্প থেকে বের হয়ে মারকাস পর্যন্ত যেতেই তার গাড়িটি বন্ধ হয়ে যায়। তার মতো অসংখ্য গ্রাহক একই সমস্যার সম্মুখীন হন। আরেকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, পাম্প থেকে ডিজেল, কেরোসিন এবং সামান্য অকটেন মিশ্রিত তেল সরবরাহ করা হয়েছে। রাস্তায় গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর বাধ্য হয়ে তিনি গাড়ি ঠেলে পুনরায় পাম্পে নিয়ে আসেন এবং টাকা ফেরত চান।
এ বিষয়ে, নিজে থেকে তেলে কোনো ভেজাল মেশানোর অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন কৃষ্ণদাস ফিলিং স্টেশনের মালিক বাবুল সাহা। তার ভাষ্যমতে, তিনি নিজে কোনো মিশ্রণ করেন না, কোম্পানি থেকে যে তেল আনেন, সবার সামনে সেটাই বিক্রি করেন। এফআই (FI) বা হাইব্রিড এবং অকটেন চালিত আধুনিক গাড়িগুলোতে এই তেলে সমস্যা হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি তেল ফেরত নিয়ে টাকা বুঝিয়ে দিচ্ছেন এবং ফেরত নেওয়া তেল একটি আলাদা ড্রামে সংরক্ষণ করছেন। পরবর্তীতে সরবরাহকারী কোম্পানির সাথে কথা বলে এবং ডিসি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রশাসন ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করেছে। পেট্রোল বা অকটেনের সাথে কেরোসিন মিশ্রিত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাম্পটি বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “স্থানীয়ভাবে প্রশাসনের কাছে তেল পরীক্ষার কোনো কারিগরি ব্যবস্থা বা যন্ত্র নেই। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ডিপো থেকে বিশেষজ্ঞদের দল এসে তেলের নমুনা পরীক্ষা করবে। পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তীতে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

