মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  গতকাল রোববার মার্কিন নৌবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নৌপথ অবরোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেঙে যাওয়ার পর এবং ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেন।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানায়, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কেউ যদি এই নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে ‘মারণ ফাঁদে’ ফেলা হবে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বার্তায় বলেন, শেষ পর্যন্ত তার লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা। তবে এর আগে ইরানকে এই পথ ব্যবহার করে কোনো সুবিধা নিতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘এখন থেকেই মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করা সব জাহাজকে অবরোধ করবে। কেউ হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’

ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ তেহরানে ফিরে এসে বলেন যে ইরান ওয়াশিংটনের কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। গালিবাফ পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধিদলের আলোচনায় নেতৃেত্ব ছিলেন।

ইরান ইতোমধ্যে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে সীমিত করেছে। তবে চীনের মতো ‘বন্ধু’ দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে টোল আদায়ের পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি বিশ্বব্যাপী চাঁদাবাজির শামিল।’ তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, যারা ইরানকে টোল দেবে, তাদের জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করা হবে।

এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে মাইন অপসারণ শুরু করেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে তেহরান।

ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা রোববার জানিয়েছে যে, পাকিস্তানের পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে ফিরে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত এক মিশরীয় নারী ইমাম বলেন, এই পরিস্থিতিতে আবারও হামলা শুরু হওয়া নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।

পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকিও দেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, যদি চীন ইরানকে সহায়তা করে, তবে চীনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

এই উত্তেজনার মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ব্যর্থতা। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ।

ট্রাম্প আবারও বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version