নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং ‘জুলাই সনদ’ এর পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রয়োগের দাবিতে নেত্রকোনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ‘১১ দলীয় জোট, নেত্রকোনা জেলা’ এর ব্যানারে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি পৌরশহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। সমাবেশে বক্তারা বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং অবিলম্বে ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান। অন্যথায় বিগত স্বৈরাচারী সরকারের মতো বর্তমান সরকারকেও ক্ষমতাচ্যুত করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা সাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে এবং মো. বদরুল আমিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য সমমনা দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ বলেন, “বর্তমান সরকার মসনদে বসেই জাতির সাথে বেইমানি শুরু করেছে। জাতি দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেনি, তাদের প্রত্যাশা ছিল অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ফলাফল ঘোষণার মুহূর্তে জনগণের রায়কে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর মাধ্যমে পাল্টে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে একটি দলকে মসনদে বসানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকার এখন সংসদে বসে নিজেদের পছন্দমতো অধ্যাদেশ গ্রহণ করছে এবং বিরোধীদের অধ্যাদেশগুলো বাতিল করছে। জনগণ জুলাই বিপ্লবে রক্ত দিয়েছে, যদি সোজা পথে না হাঁটেন, তবে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার মতোই আপনাদের এদেশের মসনদ থেকে বিতাড়িত করবে জনগণ।”
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ভাবতেও পারিনি একটি সফল বিপ্লব এবং নির্বাচিত সরকারের দেড় মাসের মধ্যেই আবার আমাদের রাজপথে নামতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমরা ভালোবাসি, তিনি যেন দেশ পরিচালনায় সফল হন তা আমরা চাই। কিন্তু তিনি আদিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার হতে যাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “৭০ শতাংশ জনগণের দেওয়া রায়কে বর্তমান সরকার অবৈধ বলছে। জুলাই সনদের নোট অব ডিসেন্টগুলো বাতিল করে প্রকৃত অর্থে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্বাচিত চেয়ারগুলোতে অনির্বাচিত লোক বসিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অবিলম্বে জনগণের দাবি মেনে নিন, নইলে চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চলবে।”
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাওলানা মাহবুবুর রহমান সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম এদেশের মানুষ আগামী পাঁচ বছর একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে শান্তিতে থাকবে। যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা জনগণকে শান্তিতে রাখতে চাচ্ছেন না। জনগণ যদি শান্তিতে থাকতে না পারে, তবে যারা মসনদে বসেছেন আপনারাও একদিনও শান্তিতে থাকতে পারবেন না।” তিনি ৫১ শতাংশের মতামত দিয়ে ৭০ শতাংশের রায়কে উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এলডিপি জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান মুকুল বলেন, “এটি একটি মীমাংসিত ঘটনা ছিল, এ নিয়ে রাজপথে নামার কথা ছিল না। কিন্তু দেড় মাস না পেরোতেই আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করা হয়েছে। যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়ে পড়ে আছেন তাদের কোনো খোঁজ নেই; সবাই শুধু মসনদ নিয়ে টানাটানি করছে। সব ক্ষমতা ১১ দলীয় জোটের মাথায় কুক্ষিগত করার হিসাব চলছে।”
সংক্ষিপ্ত এ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর অঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম মিয়া সোহাগ, এনসিপি’র নেত্রকোনা জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার শামীম ও সদস্য সচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান এবং জামায়ােতের জেলা শ্রমিক বিভাগের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, ওলামা বিভাগের জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল্লাহ ভূঁইয়া, জামায়াতের পৌর আমির মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমির মাওলানা অলিউল্লাহ, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আবুল হোসেন তালুকদার এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি আতিক হাসান হৃদয়সহ স্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ।

