শেখ শামীম: নেতা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হতে পার হয়ে যায় বছরের পর বছর- এমন প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রচণ্ড গরম ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কষ্ট লাঘবে অভিভাবকদের করা আকস্মিক আবদার তিনি পূরণ করলেন মাত্র সাত দিনের মাথায়। নিজের এক মাসের বেতনের এক লাখ টাকা দিয়ে কিনে দিলেন আইপিএস (IPS)।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মুক্তি প্রি-ক্যাডেট স্কুলে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে আইপিএস স্থাপন উপলক্ষে ‘ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন’ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা নিজেরা ফিতা কেটে আইপিএস স্থাপনের পর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে। এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের চোখেমুখে ছিল দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হওয়ার স্বস্তি ও আনন্দ।
এরআগে, গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) সকালে কলমাকান্দার মুক্তি প্রি-ক্যাডেট স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। স্কুলটিতে প্লে-গ্রুপ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুটি শিফটে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র তাপদাহ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ক্লাস করতে গিয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছিল।
সেদিন ডেপুটি স্পিকারের উপস্থিতির খবর পেয়ে স্কুলের গেটে জড়ো হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর মা ও অভিভাবক। রুমা আক্তার, মরিয়ম, পিংকি সাহা, রিমা আক্তার, লিপি সরকার এবং ছায়া রানীর মতো অভিভাবকবৃন্দ ডেপুটি স্পিকারকে ঘিরে ধরেন। তারা স্কুলের বিদ্যুৎ সমস্যার কথা তুলে ধরে শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন পাঠদানের স্বার্থে আইপিএস স্থাপনের জোর দাবি জানান। শিশুদের এমন কষ্টের কথা শুনে কালক্ষেপণ না করে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার তাৎক্ষণিকভাবে স্কুলের আইপিএস কেনার জন্য নিজের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ এক লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন।
কথা দিয়ে কথা রাখার বিরল দৃষ্টান্তের পর আজ (শনিবার) সকাল ৯টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের। যেখানে ব্যানারে লেখা ছিল- ‘মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি মহোদয়কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান’।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম আহম্মদ তালুকদার এবং সাবলীল সঞ্চালনায় ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক তালুকদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) আহ্বায়ক মো. সেলিম রেজা।
অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকারের প্রতি শিশুসুলভ ভালোবাসায় সিক্ত বক্তব্য রাখে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে বক্তব্য দেয় পঞ্চম শ্রেণির ফাতেহাতুল রাইসা, চতুর্থ শ্রেণির সিনড্রেলা নকরেক, তৃতীয় শ্রেণির শ্রীজা চক্রবর্তী, দ্বিতীয় শ্রেণির রুয়াইবা আলম আদিবা, প্রথম শ্রেণির অর্নিস প্রসূন সরকার এবং নার্সারী শ্রেণির ছোট্ট শিক্ষার্থী আরাফ আহমেদ জায়ান।
এছাড়া অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন রিমা আক্তার ও আ. রশিদ। শিক্ষকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম, শিক্ষিকা পূর্ণিমা রানী চৌধুরী এবং এসএমসির সদস্য স্বপন তালুকদার। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে জনপ্রতিনিধিদের এমন দ্রুত সাড়া দেওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল। শিশুদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের এই ভালোবাসা ও মহানুভবতা কলমাকান্দাবাসী দীর্ঘদিন মনে রাখবে।
অনুষ্ঠানে মুক্তি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন। সকল আনুষ্ঠানিকতা ও বক্তব্য শেষে বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং ডেপুটি স্পিকারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আইপিএস স্থাপনের ফলে এখন থেকে মুক্তি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের চার শতাধিক শিক্ষার্থী লোডশেডিংয়ের সময়ও স্বস্তিতে ও নির্বিঘ্নে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।
