দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে শাহজাহান মিয়া (৩৫) নামে এক নৈশ প্রহরীকে হাতেনাতে ধরেছে এলাকবাসী। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকালে দুর্গাপুর পৌরসভা খুঁজিউড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাহজাহান মিয়া ওই এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে ও আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরীর চাকরি করেন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু (৭) বিকালে বিদ্যালয় থেকে ফেরার পর সহপাঠীদের সাথে খেলা করছিলো।
এই সময় অভিযুক্ত শাহজাহান শিশুটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শাহজাহানকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী সেলিম মিয়া জানান, শিশুর চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি শিশুটির উপর বসে মুখে চাপ দিয়ে ধরে রেখেছে শাজাহান।
পরে আমি শাহজাহানকে সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করি। এই সময় ভয়ে শিশুটি কান্না করতে থাকে আর কিছুক্ষণ হলেই হয়তো শিশুটির সর্বনাশ হত। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, একটি বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী হয়েও নিয়মিত মাদকাসক্ত অবস্থায় থাকে এই শাহজাহান। এর আগেও মানসিক ভারসাম্যহীন নারী সহ এলাকার নারী ও শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে শাজাহানের বিরুদ্ধে।
সে মাদক সেবন করে। আজকের এই ঘটনাটি খুবই নেককারজনক। এই ঘটনায় আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ভুক্তভোগী শিশুর নানী জানান, শিশুটির বাবা মা চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকে। তাই শিশুটিকে দেখভাল করার জন্য আমার কাছেই রাখি। আজকে বিদ্যালয় থেকে আসার পর খাওয়া-দাওয়া করে বাসা থেকে বের হয়েছে।
এর মধ্যে আমার নাতিকে ধরে নিয়ে নিয়ে যায় শাহজাহান। আমার নাতির মুখে চাপ দিয়ে ধরে রেখে শ্বাস রোধ করে অপকর্মের চেষ্টা করেছে শাজাহান। শরীরের হাতে মুখে-বুকে বিভিন্ন স্থানে কামরের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কামরুল হাসান জানান, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।
