স্টাফ রিপোর্টারঃ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তালিকাভুক্ত ডিলার ও সেবা গ্রহীতারা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাদিয়াতুল ট্রেডার্সের খাইরুল ইসলাম পরান এবং সুমন এন্টারপ্রাইজের রেদুয়ান আহম্মেদ সুমনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত ৩৩ জন ডিলার থাকলেও তাদের অধিকাংশই এই দুই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা ডিলারদের কার্যক্রম নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালনা করছেন। ডিলারদের দাবি, কেউ যদি নিজস্বভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে চান বা পরান-সুমনের বাইরে কাউকে দায়িত্ব দিতে চান, তাহলে নানা কৌশলে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি প্রতিনিধিদের সরিয়ে নিজেদের পছন্দের লোক বসানো, বরাদ্দ বন্ধ রাখা কিংবা ডিলারশিপ নবায়ন বন্ধ করে দেওয়ার মতো হুমকিও দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ১২টি ডিলারশিপ সরাসরি এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার জানান, সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামেই বারবার বেশি বরাদ্দ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৯ হাজার গ্রাহকের পণ্য বিতরণ না করে আত্মসাৎ করা হয়। একই বছরের রমজানে ট্রাকসেলের ৫ ট্রাক পণ্য, যা প্রায় ২ হাজার দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও জানা যায়, ২০২৫ সালে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৫৬ হাজার গ্রাহকের পণ্য আত্মসাৎ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই পণ্য বিক্রির অর্থ দিয়ে সিন্ডিকেটের সদস্য পরান দুটি ট্রাকের মালিক হন।

একজন ভুক্তভোগী ডিলার জানান, তার প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ পাওয়া ট্রাকসেলের পণ্য তাকে না জানিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে তার বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। চলতি বছরের রমজানেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাগজে-কলমে ১০ ট্রাকে ৪ হাজার গ্রাহকের জন্য বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে প্রতিটি পয়েন্টে ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে পণ্য দিয়ে বাকিগুলো গোপনে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

গত ৯ মার্চ গারাডোবা বাজারে সুমনের নিয়ন্ত্রণাধীন মেসার্স তারেক ট্রেডার্সে পণ্য বিতরণের সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা পণ্য গুনে বিতরণের দাবি জানালে প্রথমে ৩০০ প্যাকেজ আনার কথা স্বীকার করা হয়। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে আরও ১০০ প্যাকেজ এনে বিতরণ করতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্টরা। রানা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি সেলিম রেজা মিলন জানান, ২০২৬ সালের ১ মার্চ তিনি ৫০০ উপকারভোগীর জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা জমা দেন।

কিন্তু তার প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য না দিয়ে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নামমাত্র বিতরণ করা হয়। এখন পর্যন্ত তিনি টাকা ফেরত পাননি, বরং তাকে প্রতিনিধি পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ডিলার ও সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত পণ্য আত্মসাৎ, কালোবাজারে বিক্রি এবং অবৈধ সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের ডিলারশিপ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version