নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে কিশোর নাইম শেখকে (১৭) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় মো. ইসমাইল (২১) নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ২টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। মামলা রুজুর পর থেকেই সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ (টাঙ্গাইল ক্যাম্প) ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
গতকাল (বুধবার) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ (টাঙ্গাইল) এবং র্যাব-১১ (সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জ) এর যৌথ আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন বরপা ও মাসাবো এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. ইসমাইলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী। গ্রেফতার ইসমাইলের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানা এলাকায়।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, নিহত কিশোর নাইম শেখ এবং অভিযুক্ত আসামিরা একে অপরের প্রতিবেশী। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে পূর্ববিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ২৫ মার্চ সকাল সোয়া ৭টার দিকে নাইম নিজ বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী শিমুল বাজারে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসামিরা নাইমের গতিরোধ করে এবং তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় নাইমের চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক কিশোর নাইমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের পরদিন গত ২৬ মার্চ নিহতের বাবা ওসমানী আলী শেখ (৪৪) বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, ইসমাইলকে গ্রেফতারের আগে গত ২৯ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে র্যাব-১৪ এর একই আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে এ মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছিল। তারা হলেন- টাঙ্গাইল জেলার মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) এবং শামীম হোসেন (৩৩)।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতারকৃত আসামি মো. ইসমাইলের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এমামলার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারেও র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
