শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় রংছাতি ইউনিয়নের রামনাথপুর এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে মাটি ভরাট ও বাড়ি নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সৃষ্ট তীব্র জলাবদ্ধতায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় একশো একর বোরো ধানের জমি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রামনাথপুর এলাকার সীমান্ত সড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত সড়কের বক্স কালভার্টের নিচ দিয়ে রামনাথপুর পূর্বপাড়ার প্রায় একশো একর ফসলি জমির পানি ‘বুইদ্ধার বিল’ হয়ে সীমান্তঘেঁষা খালে গিয়ে পড়তো। কিন্তু বর্তমানে প্রভাবশালী মহল কালভার্টের সামনে মাটি ফেলে ও সড়কের পাশে অপরিকল্পিত বাড়ি নির্মাণ করে পানি চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, মহিষখলা নদীর ব্রিজ থেকে রামনাথপুর ইমপোর্ট বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত পানি প্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথও বর্তমানে বাধাগ্রস্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, আরশাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি ব্রিজের দক্ষিণ পাশ ভরাট করে পানি চলাচলের এই প্রাচীন পথটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এতদিন এই পথ দিয়েই পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতো।
তবে অভিযুক্ত আরশাদ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, নালাটি তার নিজের কেনা জমির অংশ। সেখানে মাটি ভরাটের কারণে অন্যদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার কোনো দায় নেই।
পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ জমিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন রবিশস্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন পার করছে। প্রায় একশো একর জমির বোরো ফসল যেকোনো সময় পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, দ্রুত পানি সরাতে না পারলে এলাকার প্রায় তিনশো কৃষক অপূরণীয় অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কৃষিজমির পাশাপাশি বসতবাড়িগুলোও হুমকির মুখে পড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালিব, সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহিম, মোমেনা খাতুন, জনি মিয়া, মো. আখতারুজ্জামান প্রমুখ। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির খামখেয়ালিপনার কারণে আজ পুরো এলাকার কৃষক পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অবিলম্বে ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলহাজ আলী। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি এলাকাটি ঘুরে দেখেছেন এবং পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, “সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নায়েবকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অনতিবিলম্বে উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কৃষকদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
