বাংলাদশের প্রবাসী আয় নিয়ে দুটি গণমাধ্যমে ভুল শিরোনাম ও তথ্যের প্রতিবেদন শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের ৮ এপ্রিলের ছাপা ও অনলাইন সংস্করণ বাংলাদশের প্রবাসী আয় নিয়ে ভুল শিরোনাম প্রকাশ করেছে। ‘যুদ্ধে রেমিট্যান্স নিয়ে উদ্বেগ’ শিরোনামটি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এছাড়াও পত্রিকাটি ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য দিয়ে যুদ্ধকালীন উদ্বেগ বিশ্লেষণ করতে চেয়েছে, অথচ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরুই হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। কালের কণ্ঠের বিভ্রান্তিকর শিরোনামের খবরটি হুবহু ছেপেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৩.০১ বিলিয়ন ডলার। মার্চ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের এক মাসে এই বৃদ্ধির হার ২৪.৬%। আবার গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর মার্চ মাসে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৩.৯% (সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক)। গত বছর জুলাইয়ের তুলনায় ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এই বৃদ্ধি যথাক্রমে ২১.৮৭% ও ৫১.৫৪% ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকেও যুদ্ধকালে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। গত বছর জুলাইয়ে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২.৪৭ বিলিয়ন ডলার, সেই তুলনায়ও ফেব্রুয়ারি-মার্চে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স বেড়েছে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি হতে থাকায় কম রেমিট্যান্স আসা দেশগুলিতেও পরিস্থিতির উন্নতির যৌক্তিক সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে সেসব দেশে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্যও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বাড়তি রেমিট্যান্স আসার সম্ভাবনাও জোরদার। তাহলে কালের কণ্ঠের উদ্বেগের কারণটা কোথায়?
পত্রিকা দুটিতে মধ্যপ্রাচ্যের সবেচেয়ে বেশি রেমিট্যান্সের উৎস ৮ দেশের তথ্য দেখানো হয়েছে। এতে উদ্বেগের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, গত বছর জুলাইয়ের তুলনায় এ বছর ফেব্রুয়ারিতে বাহরাইন, জর্দান, ও ইরাক থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। তবে তাদের দেওয়া একই পরিসংখ্যান বলছে, বাকি ৫ দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। গত জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারিতে এই ৮ দেশ থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। মূলত এরপর, অর্থাৎ মার্চ মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরু হয়। এক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি মাসের উপাত্ত দিয়ে ’যুদ্ধের কারণে রেমিট্যান্স নিয়ে উদ্বেগ’ বলাটা যৌক্তিক নয়। দ্বিতীয়ত, মার্চ মাসের তথ্যও কালের কণ্ঠের উদ্বেগের বিপরীত চিত্রই হাজির করে।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তীকাল সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।
‘বাংলাফ্যাক্ট’ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি’র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট।
