কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবু সাদেক ভূঁইয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আবু সাদেক ভূঁইয়া ওই গ্রামের মৃত কাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা দাবি করছেন, ভাতিজার ছোড়া ঢিলের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি; অতিরিক্ত উত্তেজনায় স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদ মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে বৃদ্ধের ময়না তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পিজাহাতি গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত সাদেক ভূঁইয়ার সাথে তার ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী ফিরোজ মিয়ার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রায় চার বছর আগে ফিরোজ মিয়ার কাছ থেকে জমি কেনা হলেও এর দলিল সম্পন্ন হয়নি, যা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে এই বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ঢিল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং ফিরোজ মিয়ার ছেলে জোনায়েদের (২৩) ছোড়া একটি ঢিল আবু সাদেক ভূঁইয়ার বুকে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া ‘মৃত্যুর প্রমাণ পত্র’ থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে আবু সাদেক ভূঁইয়ার মৃত্যু হয়। সেখানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘শারীরিক লাঞ্ছনার ইতিহাস’ এর কারণে ‘অপরিবর্তনীয় কার্ডিও রেসপিরেটরি ফেইলিউর’ উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ভিন্ন কথা জানিয়েছে পুলিশ। কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, মৃত ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “ঝগড়ার সময় উত্তেজিত হওয়াতে ওখানেই তিনি স্ট্রোক করেছেন”। ঢিলের আঘাতে মৃত্যুর অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি প্রশ্ন রেখে বলেন, “ঢিল দিয়ে কি একজন মানুষ মারা যায়?”
ওসি মেহেদী মাকসুদ আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। নিহতের পরিবার থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ফিরোজ মিয়া, তার ছেলে জোনায়েদসহ অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
