হস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার চিংগড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোন সময় আবারও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা স্থানীয়দের।
শুক্রবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চিতলমারী-পাটগাতি সড়কের চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে সড়কজুড়ে ইটের গুড়ি। এক পাশে চিংগড়ী গ্রামের শেখ বাড়ি অন্যপাশে মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস বাড়ি। শেখ বাড়িতে ঢুকতেই বাতাসে পোড়াগন্ধ আর চোখের সামনে বসতবাড়ির ধ্বংসাবশেষ। বিভিন্ন স্থান থেকে দল বেধে লোকজন আসছে, প্রতিহীংসার আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর দেখতে। কারও ঘর পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে গেছে। আবার কারও অর্ধাংশ পুড়ে গেছে।
অনেকের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। একবেলা খাবারেরও ব্যবস্থা নেই বেশিরভাগ ঘরে। হামলায় নিহত রাজিবের বাড়ির পেছনে দুই ডেক্সিতে সবার জন্য এক সাথে খাবার রান্না হচ্ছে। আর শেখ পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য লুট হওয়া সম্পদ ও পুড়ে যাওয়া বাড়ি ঘর হারানোর কষ্টে ঘরের সামনে অসহায় বসে আছেন।পুরে গেছে শেখ বাড়ির মধ্যে থাকা বৈদ্যুতিক খুটিও, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এলাকার অনেক পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিফ শেথ নামের এক যুবক চিতলমারী-পাটগাতি সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিল।বিশ্বাস পরিবারের লোকজন ওই যুবককে ফুলকুচি (লোহার সিকের তৈরি এক ধরণের মাছধরা অস্ত্র) দিয়ে আঘাত করে। বিষয়টি জানাজানি হলে শেখ পরিবার ও বিশ্বাস পরিবারের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সন্ধ্যা নাগাত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
ক্ষতিগ্রস্ত লিয়াকত শেখ বলেন, আগুন দিয়ে আমার সব শেষ করে দিয়েছে। কি খাব আর কি করব জানি না। আমার ছেলে বা আমিতো কারও সাথে মারামারি করতে যাইনি, তাহলে আমার ঘর পোড়ালো কেন।
মনোয়ারা বেগম নামের এক নারী বলেন, আমার স্বামী প্যারালাইজড (পক্ষাঘাতগ্রস্থ) বিছানায় শোয়া। মারামারির ভয়ে ছোট ছেলেকে ঢাকায় পাঠিয়েছি, আর বড় ছেলে ভ্যান চালায়। ঋণ করে ৬ মাসের ধান কিনে রাখছিলাম ঘরে। তাও পুড়ে গেছে। কি খাব জানিনা।
আব্দুর গণি শেখের স্ত্রী জয়নব বেগম বলেন, ঘর ঠিক করার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঋণ করেছিলাম। তা নিয়ে গেছে। একটা ছাগল ও কয়েকটা হাস ছিল, তাও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।কিভাবে বাঁচব জানি না।হামলাকারীদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন এই নারী।
ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ বাবলু শেখ বলেন, ওরা সবাই অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে একসাথে আসছে, এসে আমাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া ও মারধর শুরু করেছে। আমরা ঠ্যাকানোর চেষ্টা করেছি। এরমধ্যে পুলিশ আসছে, নুরে আলম দারোগা (এসআই) পুলিশ নিয়ে আমাদের লোকজনকে পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছে। আর পুলিশের সামনেই আমাদের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়েছে। নুরে আলম দারগা ওদের দিয়ে এসব করিয়েছে। আমার ঘরে ৯ভরি স্বর্ণ ও ৫ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। আর অন্তত ৪০টি ঘরে আগুন দিয়েছে।


