নিজস্ব প্রতিবেদক: মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাম নবমী পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিনব্যাপী দুর্গাপুর পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী দশভুজা মন্দিরে এ পূজার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন ‘সুসং সনাতনী যুব সংঘ’ এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক ও মন্দির কমিটি সূত্রে জানা যায়, ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের আশীর্বাদ লাভ, রাহু-কেতুর কু-প্রভাব থেকে পরিত্রাণ এবং জীবনের নানা সঙ্কট ও বাধা থেকে মুক্তির আশায় শুক্রবার সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রী রামের অনুসারী শত শত ভক্তবৃন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে সমবেত হন। ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী দশভুজা মন্দির।
দিনব্যাপী পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বিকেলে ছিল বিশেষ আয়োজন। ধর্মীয় গানের তালে তালে অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় নৃত্য প্রতিযোগিতা, যা আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এরপর সন্ধ্যায় রাম নবমীর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরে এক তাত্ত্বিক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মন্দির প্রাঙ্গণে আগত সকল ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শ্রী শ্রী দশভুজা মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সুসং সনাতনী যুব সংঘের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রাম নবমীর আয়োজন প্রসঙ্গে সুসং সনাতনী যুব সংঘের সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক রাজেশ গৌড় বলেন, “ভগবান শ্রী রামের কৃপা সাথে থাকলে জীবনের যে কোনো ভয়কে সহজেই জয় করা সম্ভব। রাম নবমীর পবিত্র দিনে বিশেষ ছয়টি উপায় পালনে দাশরথি রাম তুষ্ট হন বলে ভক্তদের প্রবল বিশ্বাস।”
তিনি আরও যুক্ত করেন, “হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র মাসের নবরাত্রির নবমী তিথিতে অর্থাৎ ত্রেতা যুগের এই দিনে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা আয়োজনে রাম নবমী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা আশা রাখি, আগামীতে আমাদের দুর্গাপুরে আরও বড় পরিসরে ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ পূজার আয়োজন করা হবে।”
