শেখ শামীম, কলমাকান্দা: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় যথাযথ মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ১৯৭১ সালের কালরাতে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একইসঙ্গে বক্তারা দিনটিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান ও বিশ্বব্যাপী পালনের জোর দাবি জানান।
দিনের শুরুতে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বিশেষ স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান।
আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের নির্মম হত্যাযজ্ঞকে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, “২৫ মার্চের কালরাত বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
গণহত্যার স্মৃতি শুধু শোক নয়, বরং এটি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় সরকারের কাছে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে এমন মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম, কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারি চাঁন মিয়া, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কনিকা সরকার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. তারিকুল ইসলাম, উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক আবু কাওছার এবং কলমাকান্দা প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীম।
এছাড়া সমাজসেবক মো. মজিবুর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ইসলাম মিম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে কলমাকান্দার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে নীরবতা পালন করা হয়।
এছাড়া, গণহত্যার ভয়াল স্মৃতি স্মরণে আজ (বুধবার) রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলায় প্রতীকী ব্ল্যাক-আউট কর্মসূচি পালন করা হবে।


