জামালপুর প্রতিনিধি: ঈদের দিনটি যেখানে হওয়ার কথা ছিল নির্মল আনন্দের, সেখানে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান সেতু উল্টে পানিতে ডুবে সহোদর ভাই-বোনসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনের ঘাটে দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড চাপে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো- দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ঝালুরচর এলাকার শের আলীর মেয়ে খাদিজা (১২) ও ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬), ডাকাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল মিয়ার মেয়ে মায়ামনি (১০) এবং গামারিয়া এলাকার কিশোর আবির (১৬)। নিহতদের মধ্যে খাদিজা ও মোতালেব আপন ভাই-বোন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে মানুষের বিনোদনের জন্য দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর প্লাস্টিকের ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে ভাসমান সেতু তৈরি করেছিল পৌর কর্তৃপক্ষ। মূলত নদের অপর প্রান্তের চরে যাতায়াত ও ঘোরাঘুরির সুবিধার জন্যই এই অস্থায়ী সেতুটি নির্মাণ করা হয়। শনিবার ঈদের দিন বিকেল থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে ওই এলাকায়।
বিকেলে সেতুটিতে একসঙ্গে অসংখ্য মানুষ উঠে পড়লে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত চাপে হঠাৎ করেই ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান সেতুটি মাঝখান থেকে ভেঙে উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই শত শত মানুষ নদের পানিতে পড়ে যান। আকস্মিক এ ঘটনায় চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পানিতে পড়ে যাওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষ সাঁতরে এবং ভাসমান ড্রাম আঁকড়ে ধরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বেশ কয়েকজন শিশু-কিশোর পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
নদের পানি থেকে পাঁচ জনকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক খাদিজা, আব্দুল মোতালেব, মায়ামনি এবং আবিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈদের দিন এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম, পুরো দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি উদ্ধার কাজের খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
