শেখ শামীম: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে অভাবনীয় ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। প্রচলিত প্রথা ভেঙে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিবদের মাধ্যমে তিনি ঈদের ত্রাণসামগ্রী প্রকৃত হতদরিদ্রদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
জানা গেছে, ডেপুটি স্পিকারের কড়া দিকনির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে বরাদ্দকৃত ঈদ উপহার সামগ্রী- শাড়ি, থ্রি-পিস ও হাজি রুমাল কলমাকান্দা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়। সাধারণত এ ধরনের সরকারি বা জনপ্রতিনিধিদের ত্রাণ বিতরণে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ব্যাপক সম্পৃক্ততা দেখা যায়। যা নিয়ে অনেক সময় স্বজনপ্রীতি বা প্রকৃত অভাবীদের বাদ পড়ার অভিযোগ ওঠে। তবে এবার যেন কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব না ঘটে, সেজন্য আগে থেকেই সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
উদ্যোগটির পেছনের মূল লক্ষ্য ছিল শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মসজিদের ইমাম ও খতিবরা সমাজের সব স্তরের মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে থাকেন এবং মহল্লার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকেন। ফলে তাদের পক্ষে প্রকৃত অসহায় ও দুস্থ মানুষ চিহ্নিত করা অনেক সহজ। ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে এই ত্রাণ বিতরণের ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় মানুষের মাঝে একটি গভীর আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এটি নিছক কোনো গতানুগতিক ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি নয়, বরং সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি ইতিবাচক ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে সমাজে ন্যায় ও সমতার ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করছেন তারা।
সার্বিক বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, “ডেপুটি স্পিকার মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় ত্রাণ বিতরণে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে স্থানীয় ইমাম ও খতিবদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যাতে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।”
তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পুরো কার্যক্রমটি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও ন্যায় নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাবে।
