জামালপুর প্রতিনিধি: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ী ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ১৮টি গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ী জামে মসজিদসহ উপজেলার চারটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব জামাতে বলারদিয়ার, মুলবাড়ী, সাতপোয়া, সাঞ্চারপাড়, পঞ্চপীর, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বালিয়া, বাউসী, হোসনাবাদ, পাটাবুগা, পুটিয়ারপাড়, বগারপাড়, উচ্চগ্রাম, চর লোটাবর ও করগ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষসহ প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে, মাদারগঞ্জ উপজেলার কাজিয়াবাড়ী গ্রামেও অনুরূপভাবে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈদের এই জামাতগুলোর অন্যতম আকর্ষণ ছিল নারী ও পুরুষ মুসল্লিদের একসঙ্গে নামাজ আদায়। পর্দাপ্রথা ও ইসলামী শরীয়ত বজায় রেখে একই স্থানে তারা ঈদের নামাজে অংশ নেন। সরিষাবাড়ীর বলারদিয়ার জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন খতিব মাওলানা আজিম উদ্দিন মাস্টার। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের বিষয়ে নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা জানান, ইসলাম একটি বিশ্বজনীন ধর্ম। পবিত্র মক্কা শরিফ ও মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রোজা, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা (কোরবানি) পালন করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত বলে তারা মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকার মানুষ এই রীতি অনুসরণ করে আসছেন।
এ বিষয়ে বলারদিয়ার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, “আমরা পবিত্র রমজান মাসের রোজা থেকে শুরু করে সকল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রাচ্যের সময়সূচি অনুসরণ করে থাকি। ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহা কোনো ক্ষেত্রেই এর ব্যতিক্রম হয় না। মূলত সৌদি আরবের সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার। তাই চাঁদ দেখার বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী আমরা একদিন পূর্বেই ঈদ উদযাপন করে থাকি।”
দেশের মূল ভূখণ্ডের একদিন আগেই এই গ্রামগুলোতে ঈদ উদযাপিত হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে এক ভিন্নরকম উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
