নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় নববধূ রিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির (ফাঁসি) দাবিতে মদন উপজেলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে মদন উপজেলার কাইটাইল বাজারে নিহত রিমার স্বজন, এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন নাগরিকবৃন্দের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এ সময় আসামিদের গ্রেফতারে কেন্দুয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভে স্বজন ও এলাকাবাসীর পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দও একাত্মতা পোষণ করে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, মদন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এন আলমসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। বিক্ষুব্ধ জনতা এ সময় ‘বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘প্রশাসনের প্রহসন মানি না, মানবো না’ এবং প্রধান অভিযুক্ত ‘পিয়েলের ফাঁসি চাই’ স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন, “আমাদের গ্রামের মেয়ে রিমা চট্টগ্রামে চাকরি করতো। সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে মামলা থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি করে কাগজপত্রের মাধ্যমে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা সংসার করার জন্য বিয়ে করেনি। পরবর্তীতে রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে মেয়েটিকে তারা মেরে ফেলেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দুয়া থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও প্রশাসন ও পুলিশ আসামিদের পক্ষ নিচ্ছে। পুলিশের নীরব ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত বিএনপি’র সভাপতি এন আলম প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, পুলিশ সুপার (এসপি), ডিআইজি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। অবিলম্বে রিমার স্বামী পিয়েলসহ তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে নেত্রকোনার মদন উপজেলার দূর্গাশ্রম গ্রামের জায়গির হোসেনের মেয়ে রিমা আক্তারের সাথে কেন্দুয়া উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে পিয়েলের প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে স্বামীর বাড়িতে রহস্যজনকভাবে গুরুতর আহত হন রিমা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, রিমার মৃত্যুর পর থেকেই স্বামী পিয়েলসহ শ্বশুরবাড়ির সকল লোকজন বাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।


