নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী ইয়াসমিনকে হত্যার ঘটনায় পলাতক ঘাতক স্বামী মো. মিজানুর রহমানকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গ্রেফতারকৃত মিজানুর রহমান জামালপুর জেলার বাসিন্দা এবং নিহত ইয়াসমিনের দ্বিতীয় স্বামী।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৪ ও র্যাব-২ এর আভিযানিক দল।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর মিজানুর ও ইয়াসমিন দম্পতি তাদের সন্তানসহ ঢাকার পল্লবী থানাধীন কুর্মিটোলা ক্যাম্পে বসবাস করতেন। তবে কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে চরম দাম্পত্য কলহ চলছিল। একপর্যায়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে নিহত ইয়াসমিন তার ছোট সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাসা ছেড়ে ঢাকার গুদারাঘাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
বিচ্ছেদের পরও মিজানুর রহমান ক্ষান্ত হননি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তিনি ইয়াসমিনের গুদারাঘাটের ভাড়া বাসায় অতর্কিত উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে তিনি ইয়াসমিন ও তার সন্তানকে জোরপূর্বক নিজের সঙ্গে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। ইয়াসমিন এতে বাধা দিলে মিজানুর ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালান। মিজানুরের এলোপাতাড়ি ও জোরালো আঘাতে ইয়াসমিন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পর নিহত ইয়াসমিনের প্রথম ঘরের সন্তান মো. আকাশ (২৯) বাদী হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই ঘাতক স্বামী মিজানুর রহমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর আসামিকে ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে জামালপুরের সিপিসি-১, র্যাব-১৪ এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরের সিপিসি-২, র্যাব-২ এর যৌথ দল জামালপুরের মেলান্দহ এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই পলাতক মিজানুরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বাহিনীটি।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


