নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় শ্রী শ্রী গোপীনাথ বিগ্রহ মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মন্দির সংশ্লিষ্টরা। প্রতিকার ও নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দিপায়ন দত্ত মজুমদার ববিসহ মন্দিরের সেবায়েতরা।
শনিবার (৭ মার্চ) এ বিষয়ে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম জানান, “এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী গোপীনাথ বিগ্রহ মন্দিরের স্বত্ব দখলীয় দেবোত্তর সম্পত্তি ভুলক্রমে সরকারের ‘খ’ তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়। পরবর্তীতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে হাসনাবানু নামের এক ব্যক্তি জমিটি নিজ নামে বিআরএস রেকর্ডভুক্ত করেন। মূলত ওই রেকর্ডের ভিত্তিতেই স্থানীয় আবুল হাসেম, তার ছেলে মো. মাসুদ মিয়া, মাজাহারুল ইসলাম, এমদাদুল হক ও শহীদ মিয়া জমিটি নিজেদের দাবি করে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
এসব ভুল বিআরএস রেকর্ড বাতিল ও স্বত্ব ঘোষণার জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষের দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে নেত্রকোনার জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন। এছাড়া, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা অপর একটি মামলায় আদালত সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষকে স্ব স্ব অবস্থানে থেকে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ১৭ নভেম্বর অভিযুক্ত আবুল হাসেমের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মন্দিরের পুরাতন ইটের সীমানা প্রাচীর ও টিনের ঘরে হামলা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে মন্দিরের আধিদার (বর্গাচাষি) কোরবান আলীসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় বারহাট্টা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
সর্বশেষ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে আবারও অভিযুক্তরা দেবোত্তর সম্পত্তির বেশ কিছু বাঁশ কেটে নিয়ে যায় এবং সেখানে থাকা অস্থায়ী ঘর ভাঙার প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা বর্তমানে চলমান দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা ও সেবায়েতদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
দখল ও হামলার অভিযোগের বিষয়ে মূল অভিযুক্ত আবুল হাসেম বলেন, “এটি একটি মিথ্যা অভিযোগ। যে জমিটি নিয়ে বিরোধ চলছে, সেটি মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি নয়। এই জমির সকল কাগজপত্র আমাদের নামে রয়েছে। যারা অভিযোগ করেছেন, তারা যদি কাগজপত্রে প্রমাণ করতে পারেন যে এটি মন্দিরের সম্পত্তি, তাহলে আমরা তা ছেড়ে দেব।”


