কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় রীমা আক্তার (১৮) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ইফতারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় রেখে পালিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কেন্দুয়া থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন। এরআগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পাচাট কোনাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রীমা আক্তার পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলার বাঁশরী গ্রামের মো. জাকির মিয়ার মেয়ে।
জানা গেছে, মাত্র এক মাস আগে পারিবারিক সম্মতিতে পাচাট কোনাপাড়া গ্রামে রীমার বিয়ে হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে চরম কলহ বিরাজ করছিল। রীমাকে নিয়মিত মানসিক চাপ ও শারীরিক নির্যাতন করত তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইফতারের খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত বা সন্দেহজনক কোনো দ্রব্য মিশিয়ে রীমাকে খাওয়ানো হয়। ইফতারের পরপরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিষক্রিয়ার লক্ষণ পান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
রীমার স্বজনদের অভিযোগ, মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে সেখানে রেখেই সুকৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে কর্তব্যরত চিকিৎসক রীমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যা নয়। রীমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর ধরন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পারিপার্শ্বিক আলামত সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা হবে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নববধূর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
