শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে তিন দিনমজুরকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে বালুভর্তি তিনটি হ্যান্ডট্রলি জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের কালাইকান্দি এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শুনানি শেষে এ দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের দিনমজুর ময়না মিয়া (৪৫), মো. আব্দুল হাই (৩০) ও মো. জাকির হোসেন (২৫)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদুর রহমান। আদালত সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা তিনটি হ্যান্ডট্রলি গাড়িতে ১৫০ ঘনফুট (প্রতিটিতে ৫০ ঘনফুট) অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু ছিল। আদালতের নির্দেশে বালুসহ গাড়িগুলো জব্দ তালিকায় নেওয়া হয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরেই ওই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও রংছাতি ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তাজামূল ইসলাম বলেন, “সম্প্রতি গভীর রাতেও হ্যান্ডট্রলি গাড়ির বিকট শব্দে আমরা ঘুমাতে পারছিলাম না। জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছালে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করি। এর প্রেক্ষিতেই আজ প্রশাসন এই অভিযান পরিচালনা করেছে।”
এ অভিযানকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একটি বড় অংশের মতে, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় আইনের এমন কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ ও স্থানীয় অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ছে।
অন্যদিকে, সচেতন মহলের আরেকটি অংশ মনে করছে, এ ঘটনায় মূলত দিনমজুররাই শাস্তির আওতায় এসেছেন। দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের চরম সংকট অনেক সময় এই খেটে খাওয়া মানুষদের ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করে। তাই শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়, দীর্ঘমেয়াদে নদী রক্ষার পাশাপাশি এই মানুষদের জন্য টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও জরুরি।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত তিন ব্যক্তিকে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরেই নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।


