শেখ শামীম: যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণীসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছে উপজেলাবাসী।
একুশের প্রথম প্রহরে কলমাকান্দা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, কলমাকান্দা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণজুড়ে শোকের আবহের পাশাপাশি মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। পরে সকালে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কণিকা সরকার, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারি চাঁন মিয়া।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবুল হাসেম, কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, শিক্ষক একেএম শাহজাহান কবীর, মো. সেলিম মিয়া এবং কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বক্তারা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগের চেতনা থেকেই বাঙালির চূড়ান্ত স্বাধীনতার পথচলা সুদৃঢ় হয়েছিল। তারা নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর আহ্বান জানান। একইসাথে মাতৃভাষার শুদ্ধ চর্চা, সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন ও সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। একুশের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
