নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। তবে এবারের ভাষা দিবসের সকল আয়োজনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আকস্মিক পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনা। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও রাতের প্রথম প্রহরে দলটির নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একুশের প্রথম প্রহর অর্থাৎ রাত ১২টা ১ মিনিটে অন্যান্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো যখন ভাষা শহীদদের স্মরণ করছিল, ঠিক সে সময়ই পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে পূর্বধলা উপজেলার তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা আমানুর রশিদ খান জুয়েল সমর্থিত (একাংশ) আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন। তারা পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের শহীদ মিনারকে বেছে নেন।
স্থানীয় মাধ্যমে এমন বিষয়ে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের সংগ্রহে আসে। তাতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে একটি বড় পুষ্পস্তবক বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। পুষ্পস্তবকের গায়ে “শ্রদ্ধাঞ্জলি- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ” লেখাটি স্পষ্ট দেখা যায়। পরবর্তীতে তারা শহীদ মিনারের বেদীতে উঠে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
এদিকে, মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে পূর্বধলা সদরের প্রধান সড়কগুলোতে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
আওয়ামী লীগ সংগঠনটি গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার কারণে আ.লীগ কোনো নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে দলীয় ব্যানার বা মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে রাতের প্রথম প্রহরেই অত্যন্ত সুকৌশলে শহীদ মিনারের বেদীতে দলটির নামে পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনাটি স্থানীয়দের অবাক করেছে।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার প্রতিবেদককে বলেন, এ ঘটনায় কাউকে আটক যায়নি। তবে তাদেরকে আটকের ব্যাপারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন উপস্থিতির কারণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার অনেকেই বিষয়টিকে আকস্মিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। পুরো এলাকায় বর্তমানে এ নিয়েই চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।


