শেখ শামীম: নবনিযুক্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, “দিন শেষে সাড়ে তিন হাত জমিতেই আমাদের সবার ঠিকানা হবে। তাই কোনো ধরনের আপস ছাড়া সর্বোচ্চ সততার সাথে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে, উপজেলার প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রতিমন্ত্রী উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী প্রতিটি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ উদ্যোগ ও কাজের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কোনো দপ্তর একা সব করতে পারবে না, সবাইকে একটি ‘টিম স্পিরিট’ নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে কলমাকান্দা ও নেত্রকোনার মানুষ গর্ববোধ করতে পারে। প্রতিটি দপ্তরকে তাদের কী প্রয়োজন এবং কী ঘাটতি রয়েছে তার একটি লিখিত তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাস্তায় অতিরিক্ত ধুলাবালির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি এলজিইডি (LGED) প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া মহাদেব নদীর ওপর ব্রিজ এবং সোমেশ্বরী নদীর প্রসঙ্গ টেনে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ দেন।

ঠাকুরকোণা থেকে কলমাকান্দা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে কোনো গাছ না থাকার বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি মে-জুন মাস থেকে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করার কথা জানান। এলাকাটিকে একটি দৃষ্টিনন্দন ও বাসযোগ্য স্থানে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কলমাকান্দায় মাদক সমস্যা সমাধানে বিশেষ জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। অপরাধপ্রবণ জোনগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়েরও নির্দেশ দেন তিনি।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি জলমহাল ও ইজমেন্ট (হালট) লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “আগে মানুষ উন্মুক্ত নদীতে মাছ ধরতে পারত, কিন্তু এখন সব লিজ দেওয়া হয়। এমন কোনো জায়গা লিজ দেওয়া যাবে না, যার ফলে সাধারণ মানুষের ব্যবহার বা চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।”
উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি দ্রুত এর তালিকা তৈরির কথা বলেন। এছাড়া বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির কথা কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উপজেলার সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও কাজের ধারাবাহিকতার প্রশংসা করে বলেন, “আমরা যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করি, তবে অনেক কঠিন কাজও সহজে সমাধান করা সম্ভব।”
মতবিনিময় এ সভায় উপস্থিত ছিলেন- কলমাকান্দার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, থানার ওসি সিদ্দিক হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আল মামুন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. কনিকা সরকার, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মুমিনুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী রুম্মান আরা প্রমুখ।
