শেখ শামীম: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে ধানের শীষের মনোনীতি প্রার্থী এবং বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, “আমি আপনাদেরই মতো এক সাধারণ গৃহিণী মায়ের সন্তান। আমার মা উচ্চশিক্ষিত ছিলেন না, কিন্তু তাঁর ত্যাগের কারণেই আজ আমি ব্যারিস্টার। আমি (কায়সার) চাই, ‘আপনাদের (উপস্থিত নারীরা) সন্তানরাও যেন একদিন বড় হয়ে বলতে পারে- আমি আমার মায়ের কৃতি সন্তান, আমি ব্যারিস্টার, আমি ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়া’। সেই স্বপ্ন পূরণের সারথি হতে চাই আমি (কায়সার)।”
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নে সিধলী বাজারে আয়োজিত নির্বাচনী এক নারী সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উপস্থিত মা-বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। নিজের শৈশবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি দেখেছি আমার মা কীভাবে ফজরের আজানে উঠে রান্নাবান্না করে আমাদের স্কুলে পাঠাতেন। নিজে হয়তো সামান্য পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে খেয়ে দিন পার করেছেন, কিন্তু আমাদের অভাব বুঝতে দেননি। মায়ের ত্যাগ ছাড়া কোনো সন্তান বড় হতে পারে না। আপনাদের এই কষ্টের প্রতিদান আমি দিতে চাই।”
নারীদের ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের এই ছোট ভাই (কায়সার) যদি আগামীতে জনপ্রতিনিধি হতে পারে, তবে আমার বোনদের ইজ্জত রক্ষা করা হবে আমার প্রথম কাজ। পাশাপাশি শিক্ষিত নারী ও বেকার যুবকদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ আমি করবো।”
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করে দিয়ে বিএনপি’র এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “নির্বাচনী কার্ড বা সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে একটি টাকাও দিতে হবে না। কেউ যদি এই কার্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে দুর্নীতি করার চেষ্টা করে, তবে আমার মায়ের বানানো ব্যারিস্টার হিসেবে আমি কথা দিচ্ছি- আমি নিজেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো। আমি শতভাগ সততার সাথে কাজ করতে চাই।”
বক্তব্যের শেষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উপস্থিত মায়েদের কাছে ভোটের চেয়েও বড় চাওয়া হিসেবে দোয়া প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “আমার মা বেঁচে থাকলে হয়তো ভোটের দিন আমার জন্য নফল রোজা রাখতেন। আজ তিনি নেই। আমি আপনাদের মাঝে আমার মাকে খুঁজি। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা ভোটের দিন নামাজ পড়ে আমার জন্য দোয়া করবেন এবং সম্ভব হলে নফল রোজা রাখবেন যেন আমি সুস্থভাবে ও সততার সাথে আপনাদের সেবা করতে পারি।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল ৭টার মধ্যেই সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন। এ সমাবেশে কৈলাটি ইউনিয়নের শত শত নারী ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে কলমাকান্দার নাজিরপুর ইউনিয়নে নাজিরপুর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কায়সার কামাল। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি তাঁর মায়ের স্মৃতি তুলে ধরলে মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে যায়। হাজারো মানুষের ভিড়ে নেমে আসে এক হৃদয়স্পর্শী নীরবতা। আবেগ সামলাতে না পেরে উপস্থিত অনেক নারী কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শনিবার কলমাকান্দা উপজেলায় দিনব্যাপী কৈলাটি, নাজিরপুরসহ বিএনপি’র নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয় লেংঙ্গুরা, খারনৈ ও রংছাতি ইউনিয়নে। শুধু নাজিরপুর ঈদগাহ মাঠেই নয়, প্রতিটি সভায় একই ধরনের আবেগঘন দৃশ্য দেখা গেছে। সব সমাবেশেই হাজার হাজার নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাবেশগুলোতে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
