নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এক রাজনৈতিক কর্মীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হায়াতপুর গ্রামের রঞ্জিত সরকারের ছেলে ভুক্তভোগী জয় সরকার (২৪) নিজে বাদী হয়ে থানায় লিখিত দাখিল করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- একই গ্রামের মৃত কীর্ত্তি নারায়ন সরকারের ছেলে রথীন্দ্র সরকার (৫২) ও গন্ডামারা গ্রামের মৃত রামগোবিন তালুকদারের ছেলে রাখেশ তালুকদার (৪৫) এই দুজন নামসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-সাতজন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. নাসিরউদ্দিন। এরআগে একই সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার হায়াতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
খালিয়াজুরী থানায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কর্মী হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে আসছিলেন। আজ সকালে তিনি হায়াতপুর বাজারে নিজের খরচে একটি চা স্টল উদ্বোধন করেন। এ চা স্টল খোলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ বিবাদী রথীন্দ্র সরকার (৫২) ও রাখেশ তালুকদারসহ (৪৫) অজ্ঞাত আরও ৫-৭ জন তার ওপর চড়াও হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিবাদীরা জয় সরকারকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং রাজনৈতিক কারণে তাকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করার জন্য চাপ দেয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে থানা বা প্রশাসনের আশ্রয় নিলে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের এবং নির্বাচন শেষে দেশছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর জয় সরকার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে খালিয়াজুরী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সেনা ক্যাম্প কমান্ডার ও বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডারের নিকটও প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুজনের একজন রথীন্দ্র সরকার বলেন, জয় সম্পর্কে তার নাতি হয়। তারা দুজনে স্বাস্থ্য নিয়ে মজার ছলে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে জয় উত্তেজিত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং জয় ঘরের আসবাবপত্র (কাপ-পিরিচ) ভাঙচুর করে। জয়ের সাথে তার সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। জয় যে রাজনৈতিক পথই বেছে নিক না কেন, তাতে তার কোনো আপত্তি নেই।
পুরো ঘটনায় নিজেকে অত্যন্ত লজ্জিত ও অপরাধী মনে করছেন ‘নিজের গালে নিজেই জুতো মেরেছি’ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো বিতর্কে জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।
খালিয়াজুরী থানা ওসি বলেন, “হুমকি-ধমকির বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। এটি এখন প্রসিকিউশনে যাবে, যা আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।”


