নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আয়োজিত নির্বাচনী এক জনসভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং জনবিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত রয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দুর্গাপুর পৌরশহরের শহীদ মিনার মাঠে উপজেলা সিপিবি আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন কৃষক বা কৃষিপণ্যের দাম কমানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তারা কৃষিভিত্তিক কলকারখানা নির্মাণের বদলে নিজেদের পছন্দমতো উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “দেরিতে হলেও যে নির্বাচনের ঘোষণা এসেছে, সেখানে আমেরিকার কোনো নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। পাকিস্তানি রাজাকারদের দোসরদের সাথে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বাংলার মানুষ ছাড়বে না। ড. ইউনুস সাহেব, আপনি যদি এই নীল নকশার সাথে থাকেন, তবে দেশের মানুষ তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।”
সভায় বিশিষ্ট চিকিৎসক ও জননেতা কমরেড ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, “স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও দেশের ঘুণেধরা সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়নি। পুঁজিবাদের বিষবাষ্প ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কারণে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। বিগত সরকারগুলোর দুর্নীতি ও ভুল নীতির কারণে দেশের কৃষি ও শিল্প ধ্বংস হয়ে কোটি কোটি মানুষ আজ কর্মহীন। এই সংকট থেকে উত্তরণে কাস্তে মার্কা প্রতীকে ভোট দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার করতে হবে।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবি দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও কাস্তে মার্কা প্রতীকের প্রার্থী আলকাছ উদ্দিন মীর। সভায় বক্তারা দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করে একটি পরিবেশবান্ধব ও সন্ত্রাসমুক্ত দুর্গাপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের অধিকার নিশ্চিতে কাস্তে মার্কার কোনো বিকল্প নেই। কৃষিভিত্তিক কলকারখানা গড়ে তুলে বেকারত্ব দূর করা হবে। সম্পদের সুষম বণ্টন ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়াই সিপিবির মূল লক্ষ্য।
উপজেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, জেলা সিপিবির সভাপতি কমরেড নলিনী কান্ত সরকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশতাক আহমেদ, নারী সেলের আহ্বায়ক কমরেড তাসলিমা বেগমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জনসভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত সাধারণ ভোটার উপস্থিত হয়ে কাস্তে মার্কায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


