ইমন সরকার, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের নির্বাচনী মাঠে যুক্ত হয়েছে এক অনন্য ও গভীর মানবিক অধ্যায়। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সরাসরি গণসংযোগে নেমেছেন তাঁর সহধর্মিণী তাসলিমা আক্তার পান্না।
তবে এই উপস্থিতি কেবল একজন প্রার্থীর স্ত্রী হিসেবে নয় বরং দীর্ঘদিনের নীরব সহযোদ্ধা, সচেতন নারী এবং ভালুকার সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবেই তাঁর আত্মপ্রকাশ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তাসলিমা আক্তার পান্না বহু বছর ধরেই আলোচনার আড়ালে থেকে মানুষের পাশে ছিলেন। অসহায় পরিবার, সংকটে পড়া নারী কিংবা সামাজিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তিনি ছিলেন এক নীরব আশ্রয়। কোনো প্রচার, কোনো শোরগোল নয় মানবিক দায়বদ্ধতাই ছিল তাঁর পরিচয়ের মূল ভিত্তি।
চলমান নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই নীরব ভূমিকারই ঘটেছে দৃশ্যমান ও শক্তিশালী প্রকাশ। ভালুকার অলিগলি, পাড়া-মহল্লা ও প্রত্যন্ত জনপদে এখন এক পরিচিত দৃশ্য কখনো উঠান বৈঠকে, কখনো নারীসমাবেশে, আবার কখনো গ্রাম থেকে গ্রামে মেঠোপথ ধরে হেঁটে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছেন তাসলিমা আক্তার পান্না। তাঁর কণ্ঠে নেই উচ্চকিত স্লোগান কিংবা উত্তপ্ত রাজনৈতিক ভাষা; আছে সংযত দৃঢ়তা, আন্তরিকতা এবং বিশ্বাসের এমন এক ভাষা, যা সহজেই সাধারণ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করছে।
বিশেষ করে নারী ভোটারদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়ে উঠেছে হৃদয়ের সংলাপ। তিনি নারীদের বুকে জড়িয়ে ধরে তাঁদের সুখ-দুঃখ শোনেন কেউ স্বামীহারা, কেউ সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, আবার কেউ ন্যূনতম নিরাপত্তা ও সম্মানের আশায় পথ চেয়ে থাকা এক সংগ্রামী জীবন। অনেক নারী ভোটারের ভাষ্য, একজন নারীর কণ্ঠে এভাবে কথা শুনে তাঁরা নিজেদের জীবনসংগ্রাম ও প্রত্যাশার প্রতিফলন খুঁজে পাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে তাসলিমা আক্তার পান্না বলেন, “আমি রাজনীতির মানুষ নই। আমি এই মাটির একজন সাধারণ নারী। কিন্তু আমি জানি, আমার স্বামী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু সবসময় ভালুকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। সুখে-দুঃখে, ন্যায়ে-অন্যায়ে তিনি কখনো পিছপা হননি।
তাই আজ এই সময়ে চুপ করে ঘরে বসে থাকার অধিকার আমার নেই।” তিনি আরও বলেন, “ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়। এটি আমাদের আশা, আমাদের ভোটাধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।” মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নারীসমাবেশ, উঠান বৈঠক ও বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিতরণে সক্রিয় রয়েছেন তিনি। কখনো দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রচার মিছিলে, আবার কখনো একা একা গ্রামীণ মেঠোপথ ধরে হেঁটে ভোটারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন ধানের শীষের বার্তা।
বিশেষভাবে নারী ভোটারদের আলাদা গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, একজন সহধর্মিণীর এমন স্বতঃস্ফূর্ত, ত্যাগী ও মানবিক ভূমিকা নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের পক্ষে গণভিত্তিকে আরও সুসংহত করছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে ভোটাধিকার বিষয়ে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে তাঁর প্রকাশ্য সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।
রাজনীতির প্রচলিত হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়ে এই প্রচারণা ভালুকার মানুষের সামনে এক গভীর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে যেখানে রাজনীতি কেবল ক্ষমতা অর্জনের লড়াই নয়, বরং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, নৈতিক দায়িত্ব এবং পাশে থাকার অঙ্গীকার। এতদিন নীরবতার ভেতর দিয়ে যে মানবিক উপস্থিতি কাজ করে এসেছে, এবার সেই উপস্থিতিই প্রকাশ্যে এসে ভালুকার নির্বাচনী রাজনীতিতে সৃষ্টি করছে এক নতুন ভাষা, এক নতুন দৃষ্টান্ত।
