ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহের ভালুকায় দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে রাজনৈতিক বাস্তবতা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলার পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লাজুড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতীক ‘ধানের শীষ’কে কেন্দ্র করে যে স্বতঃস্ফূর্ত জনসম্পৃক্ততা গড়ে উঠেছে, তা স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন গতিধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গণসাড়া ভালুকার রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কোনো বড় সমাবেশ বা কেন্দ্রীয় ঘোষণার অপেক্ষা ছাড়াই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিল, পথসভা, উঠান বৈঠক ও রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। এসব কর্মসূচিতে তরুণ ভোটার, শিল্পকারখানার শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
হবিরবাড়ী ইউনিয়নের একটি শিল্পকারখানার শ্রমিক আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন চুপ ছিলাম। এবার মনে হচ্ছে নিজের মত প্রকাশ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভোটটা যেন দিতে পারি এইটাই আমাদের চাওয়া।” বিশেষভাবে চোখে পড়ছে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। উঠান বৈঠক ও পাড়া-মহল্লার আলোচনায় নারীরা কেবল উপস্থিতি দেখাননি; বরং তারা ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সম্মানজনক অংশগ্রহণের দাবি তুলছেন স্পষ্ট ভাষায়। কাচিনা ইউনিয়নের একজন গৃহিণী ও নারী ভোটার রোজিনা বেগম বলেন, “রাজনীতি মানে শুধু পুরুষদের বিষয় নয়।
আমাদের নিরাপত্তা, সন্তানের ভবিষ্যৎ সবকিছুই ভোটের সঙ্গে জড়িত।” তরুণদের অংশগ্রহণও এবারের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভালুকা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রিফাত ইসলাম বলেন, “আমরা পরিবর্তনের কথা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, বাস্তব রাজনীতিতেও দেখতে চাই। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেই তরুণরা মুখ ফিরিয়ে নেবে না।” স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই রাজনৈতিক সাড়া নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
ভালুকা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবুল হোসনে জানান, “স্থিতিশীল রাজনীতি থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হয়। মানুষ যখন আশার কথা বলে, তখন বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।” স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতে ভালুকায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও এবারের মতো আবেগঘন, স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা খুব একটা দেখা যায়নি।
তারা মনে করেন, এই গণজোয়ার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির হার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতার এই সময়ে ভালুকায় ধানের শীষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গণজোয়ার কেবল একটি নির্বাচনী সমীকরণ বদলের পূর্বাভাস নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে নীরব হয়ে থাকা সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরের এক তাৎপর্যপূর্ণ পুনর্জাগরণ যার প্রতিধ্বনি স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় রাজনীতির বিস্তৃত পরিসরেও শোনা যেতে পারে।
