স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোরঃ
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট(এনডিএফ) এর ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে যশোর শহরে লাল পতাকা মিছিল ও প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশব্যাপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর জেলা কমিটির উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার ( ৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুর সাড়ে ১২টায় যশোর জেলা কার্যালয় থেকে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের লাল পতাকার মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
যশোর প্রেসক্লাবের সামনে জেলা সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ বিএম শামীমুল হক ও যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুল হক লিকু, জাতীয় ছাত্রদলের যশোর জেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক মধুমঙ্গল বিশ্বাস প্রমুখ। সমাবেশটি পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান রাজেস। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের স্বার্থরক্ষাকারী নয়াউপনিবেশিক বাংলাদেশে কখনই গণতন্ত্র ছিল না।
দেশ পরিচালিত হয় সাম্রাজ্যবাদী নীতি-নির্দেশে। নির্বাচনের ফলাফলও নির্ধারিত হয় তাদের পরিকল্পনায়। এবারের নির্বাচনে বিষয়টি উলঙ্গভাবে সামনে আসছে। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশে মার্কিনের সামরিক অবস্থান ও ঘাঁটি গড়ার লক্ষ্যে ‘মানবিক করিডোর’, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ইজারা প্রদানের জোর পাঁয়তারা, ঢাকাতে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস চালু, স্টারলিংকের সাথে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি সংযুক্তি ও লালদিয়া বন্দর, পানগাঁও বন্দর প্রদানের চুক্তিসহ ‘নন ডিস ক্লোজার’ চুক্তি সম্পন্ন করা তারই অংশ মাত্র।
আবার মংলা বন্দর নির্মাণের দায়িত্ব, তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়ন, লালমনিরহাটে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের দায়িত্ব চীনকে দেয়ার তৎপরতা চলছে। ভোটের পূর্বেই সম্ভাব্য ৬ ফেব্রুয়ারি জাপান ও ৯ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সাথে জাতীয় ও জনস্বার্থ বিকিয়ে বাণিজ্যচুক্তি করতে চলেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এমনিতেই দেশের অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ঋণসঙ্কট, বাজেট ঘাটতি , বাণিজ্য ঘাটতি, সর্বকালের ঋণখেলাপী, বিনিয়োগ বন্ধ্যাসহ বেশকিছু ব্যাংক দেউলিয়ার মুখে নোট ছাপিয়ে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। দূর্নীতি বহাল রয়েছে ও ক্ষেত্র বিশেষে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর ফলে সকল সংকটের দায় চাপছে দেশের আপামর শ্রমিক-কৃষক মধ্যবিত্তসহ সকল স্তরের সাধারণ জনগণের উপরে। মূল্যস্ফীতি, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, কর্মচ্যুতি, শ্রমিক অধিকার সংকুচিত হওয়া, উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে কৃষক বঞ্চিত হয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে ঋণের বোঝা। দ্রব্যমূল্যের অব্যাহত উর্ধগতি সর্বস্তরের জনগণ আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতায় দিশেহারা। দিনকে দিন মানুষ অসহনীয় হয়ে বিক্ষুব্ধ হচ্ছে। তার ওপর আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বৈরশাসন। কলকারখানায় শ্রমিক নির্যাতন, হত্যাকান্ডসহ ধর্ষণ, খুন, নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় রূপ নিয়েছে।
জেলসহ পুলিশের হাতে বিনা বিচারে হত্যা, মৃত্যু ঘটছে। শ্রমিক-কৃষক জনগণের দুঃখ, দুর্দশা, সমস্যা-সংকটের জন্য দায়ী হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ আমলা দালালপুঁজির নির্মম শোষণ ও স্বৈরাচারি শাসন। সাম্রাজ্যবাদের দালাল ড. ইউনুসের সরকার জনজীবনের সমস্যা উপেক্ষা করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী তথাকথিত সংস্কার কর্মসূচি সংবিধান পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঘোষিত নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত করে মার্কিন স্বার্থ বাস্তবায়নের উপযোগী সরকার প্রতিষ্ঠা এবং যার মাধ্যমে মানবিক করিডোর, বন্দর সমূহ ইজারাদার ও বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়াসহ সম্প্রতি সকল চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে।
আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষ চীন-রাশিয়াও বসে নেই। এই নির্বাচন যেমন সংঘাত ও ঝুঁকিপূর্ণ তেমনি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচিত সরকার জনগণের কোন স্বার্থ বাস্তবায়ন করবে না। বরঞ্চ সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা এবং জাতীয় স্বার্থ ও জননিরাপত্তার স্বার্থ বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত থাকবে। আবার আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব-সংঘাতপূর্ণ থাকবে। ফলে রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থেকে জাতীয় সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক শক্তিকে সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও জাতীয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তিসহ তিন শোষণ ও শাসনের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে শ্রমিক-কৃষক জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান পপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করার আহ্বান জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ সাথে সাথে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে বাংলাদেশকে যুক্ত করা ও জাতীয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে সকল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দল, শক্তিসমূহকে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অগ্রসর করার আহ্বান জানান।
