নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের ২০ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে র্যাব-১৪। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ সদর থানা সংলগ্ন পাসপোর্ট অফিসে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-১৪ (সিপিসি-২) কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান এবং র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের আইন কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. জুবায়ের।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০ জন দালালকে সাজা প্রদান করা হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে এক মাসের কারাদণ্ড প্রাপ্ত হলেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫)।
বিশ দিনের কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- মো. রাফসান (২৩), মো. শামীম মিয়া (৩১), মো. সাগর আহমেদ (৩৫), মো. জাকির হোসেন (৩০), মো. আব্দুর রহমান (২৫), মো. ফয়সাল (২২), মো. হৃদয় মিয়া (২৫), মো. বাদল মিয়া (৪৭), মো. মিজানুর রহমান (৩০), মো. মোতাহার হোসেন (২৭) ও মো. রনি (২৫)।
পনেরো দিনের কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- মো. ইমন (২০), মো. নাদিম মিয়া (২৮), মো. উজ্জ্বল মিয়া হৃদয় (২৫), মো. সাফায়াতুল খালেক ওরফে সাইফুল (৩৮), মো. রাসেল মিয়া (৩২) ও মো মাসুদ রানা (৩৮) এবং সাত দিনের কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- মো. মাহফুজ (৪৩) ও মো. সেলিম মজুমদার (৫২)।
র্যাব জানায়, এই দালাল চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট অফিসে আসা সাধারণ ও অসহায় মানুষকে জিম্মি করে আসছিল। তারা দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়া বা কম খরচের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত। অনেক ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করত।
অভিযান শেষে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব এবং সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে র্যাবের এ ধরণের জনবান্ধব ও কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সাজাপ্রাপ্তদের আজই (রবিবার) কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।


