নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরা হলেন- নাজমা আক্তার (৫০), রাকিব মিয়া (৩০) ও রাব্বি মিয়াকে (২২)। এছাড়াও মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয় জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার গাগলাজুর এলাকার হাওরে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাগলাজুর মৌজার ‘হাফভিলা’ নামক হাওরের প্রায় ১০ একর খাস জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরমধ্যে সাড়ে ৪ একর জমি ১৯৭৮ সালে চৌড়াপাড়া গ্রামের ফুল মিয়াসহ তার লোকজনের নামে সরকারিভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। ১৯৮২ সালে জমিটি তাদের নামে বিআরএস রেকর্ড ও নামজারিও সম্পন্ন হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গাগলাজুর-বড়হাটি গ্রামের প্রভাবশালী আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে জোরপূর্বক ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। এ নিয়ে ফুল মিয়া আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত দখলদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেলে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উভয় পক্ষকে অবগত করে। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই আনোয়ার হোসেনের লোকজন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমিতে বোরো ধান রোপণ করতে শুরু করেন। ফুল মিয়ার পক্ষ এতে বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটার আঘাতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
এ ঘটনায় জমির দাবিদার ফুল মিয়ার পক্ষ থেকে মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ওসি জানান, “অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
