নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মদন উপজেলায় মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ১৩ বছর বয়সি অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক পরান মিয়ার (১৯) তার বাবা বুলবুল মিয়াকে (৫০) আটক করেছে মদন থানা পুলিশ।
এরআগে একই দিন ভুক্তভোগীর বাবা মো. আবুল বাশার বাদী হয়ে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ দুই-তিন জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী মো. পরান মিয়া (১৯) দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে ভুক্তভোগীভুক্তভোগী রাজী না হওয়ায় পরান তাকে তুলে নেওয়ার হুমকি প্রদান করে। এ বিষয়ে পরানের পরিবারকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
গত ২৬শে জানুয়ারি সকালে ভুক্তভোগী মাদ্রাসা থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরান মিয়া ও তার সহযোগীরা একটি সিএনজি নিয়ে রাস্তার ওপর ওত পেতে থাকে। ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা তাকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশ্যে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার পরানের বাড়িতে গিয়ে কিশোরী ছাত্রীর কথা জিজ্ঞাসা করলে অভিযুক্তের পরিবার ও সহযোগীরা ভুক্তভোগীকে তাদের কাছে আছে বলে স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিভাবকরা জানান, “নাবালিকা মেয়েকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অপহরণ করা হয়েছে। আমাদের সন্তানকে দ্রুত ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এদিকে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগে অভিযুক্ত পরানের বাবা বুলবুল মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমার ছেলে মেয়েটাকে নিয়ে পালিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু ওর ফোন বন্ধ থাকায় কোনো যোগাযোগ করতে পারছি না।”
এ বিষেয়ে জানতে মদন থানার ওসি মো. হাসনাত জামানকে ততোধিকবারের বেশি মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, “অপহৃত মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ সর্বাত্মক কাজ করছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের বাবাকে আটক করা হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ভিকটিমকে উদ্ধারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
