নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির দায়ে দুই ডিলারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) উপজেলার আসমা ও বাউসী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। তবে অভিযানের পর ডিলারদের পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্বজ্ঞান ও ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজেদুল ইসলাম এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নিটোল এন্টারপ্রাইজ (বাউসী বাজার) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং নূর মেহেদী এন্টারপ্রাইজ (আসমা ইউনিয়ন) সারের মূল রশিদ যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় কৃষি বিপণন আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা।
গতকাল মঙ্গলবার ’দ্যা মেইল বিডি ডটকম’ অনলাইন পোর্টালে ”সারের সংকট নিয়ে প্রশ্ন করতেই ‘বিরক্ত’ কৃষি কর্মকর্তা; বারহাট্টায় কৃষকের হাহাকার!” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
অভিযোগ ওঠে যে, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান আজাদ গুদামে সারের প্রকৃত মজুদ যাচাই না করেই অ্যারাইভাল কাগজে স্বাক্ষর করেছেন।
কাগজপত্রে ৬০৩ বস্তা সার থাকার কথা থাকলেও ডিলারের দাবি অনুযায়ী ছিল ৩০০ বস্তা, আর প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের মতে ছিল মাত্র ১৬০ বস্তা। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কি বসে রয়েছি? এরপরও এত নিউজ করতে হয়?” তার এই মন্তব্য স্থানীয় মহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ডিলার রাতের আঁধারে গুদামে সার এনে মজুদ দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও কাগজপত্রের সঙ্গে মজুদের অসংগতি ধরা পড়ে।
”উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সার গুদাম পরিদর্শন করে রেজিস্ট্রার ও মূল্য তালিকা যাচাই করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”- সাজেদুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি অফিসের গাফিলতির কারণেই ডিলাররা সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির সাহস পাচ্ছেন। শুধু ডিলারদের জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ না করে, যে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরে এ অসংগতি বৈধতা পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


