মনিরুজ্জামান খান গাইবান্ধা:
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারে বাধা প্রদান ও পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। থানা সূত্রে জানা যায়,গত (২৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা বাজার এলাকায় জেলা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২ নং কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক মোঃ জোবায়ের হাসান গোলাপ-কে তার বসতবাড়ি থেকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়। এ সময় চেয়ারম্যানের স্ত্রী সাদিয়া জান্নাত জুতি বাড়ি থেকে বের হয়ে হৈচৈ শুরু করলে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত লাঠি ও গাছের শক্ত ডাল নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং গ্রেফতারে বাধা প্রদান করে।
হামলার সুযোগে চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান গোলাপ কৌশলে পালিয়ে যায়। হামলায় এসআই শিবলী কায়েস মীর ও এসআই সেলিম রেজা আহত হন। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে থাকা একটি হোন্ডা ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল ও একটি পালসার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে সি সার্কেল (পলাশবাড়ী-গোবিন্দগঞ্জ) এর সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রশিদুল বারী সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ঘটনায় এসআই আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২৭, সেই মামলায় ১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৪২৭/৩৪ পেনাল কোডে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা রুজুর পরপরই পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার রশিদুল বারী এর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, সৈয়দ সোহাগের ছেলে সামিউল (২০) আসাদুল্লাহর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪০) মৃত আজহার আলীর ছেলে তাজুল ইসলাম (৩৫) ও আলতাফ মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (৪০) আলাউদ্দিনের ছেলে নুরুজ্জামান (৩৫) মানিক মিয়া (২০)। এ এদের সকলের বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সকলেই আওয়ামী লীগে নেতা ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
