নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নে টিসিবির পণ্য বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৮০ জন গ্রাহকের পণ্যে ঘাটতি পাওয়া গেছে। এই ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় ডিলার নাকি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা- তা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার জয়বাংলা বাজারে টিসিবির ডিলার মেসার্স এনামুল হক ট্রেডার্স পণ্য বিতরণ শুরু করে। সেখান থেকে মাঘান ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. এলিদ মিয়া ও তার লোকজন ৮০টি কার্ডের পণ্য উত্তোলন করে নয়াপাড়া বাজারের একটি সমিতি ঘরে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- প্রত্যেক কার্ডধারীর কাছ থেকে যাতায়াত খরচ বাবদ ৩০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। ২ কেজি ডালের প্যাকেটে ২৫০-৩০০ গ্রাম এবং ১ কেজি চিনির প্যাকেটে ১৫০-২০০ গ্রাম পণ্য কম পাওয়া গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মিয়ার উপস্থিতিতে পণ্য পুনরায় পরিমাপ করা হলে ওজনে কম দেওয়ার সত্যতা মেলে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পণ্য বিতরণের কথা থাকলেও উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ইনস্ট্রাক্টর আসাদুজ্জামান সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি জানান, পণ্য বিতরণের বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি।
অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এলিদ মিয়া সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “পণ্য দেওয়ার সময় আমি ছিলাম না এবং কারো কাছ থেকে টাকাও নেই নি। এটি আমার বিরুদ্ধে অপবাদ।”
অন্যদিকে ডিলার এনামুল হক দাবি করেন, তিনি নিয়ম মেনেই পণ্য দিয়েছেন এবং ওজনে কোনো কম করেননি। ট্যাগ কর্মকর্তাকে ফোন করার প্রমাণ তার কাছে আছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ইউএনও বলেন, “ইউপি সচিবের মাধ্যমে জানতে পেরেছি দোকানে নেওয়ার পর ওজনে কম হয়েছে। কেন ট্যাগ অফিসারকে জানানো হয়নি এবং একজন ব্যক্তি ৮০ জনের পণ্য কীভাবে তুললেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। ডিলারের অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাকেও শোকজ করা হবে।”
